শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

চৌগাছায় পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষী

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) ।
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০২৪
  • ৭২ Time View

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষীরা। বর্ষার ভরা মৌসুম হলেও বৃষ্টির দেখা তেমন মেলেনি। মাঝে-মধ্যে দু-এক পসড়া বৃষ্টি হলেও তা খাল বিলে জমেনি। উপজেলার বুকচিরে বয়ে গেছে কপোতাক্ষ নদ। তবে গেল বছর থেকে নদ খননের কাজ শুরু হয়েছে। ফলে নদে পাটজাগ দিতে পারছেন না নদের দু-পাড়ের চাষীরা। এদিকে এলাকায় সরকারি বিল-বাওড়গুলো সরকার ব্যাক্তি মালিকানায় লিজ দেওয়ায় বিল-বাওড়ে পাট জাগ দিতে দিবে না। ফলে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষীরা।

উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের পাট চাষী জহিরুল ইসলাম বলেন, এবার চাষের শুরুতে চাষিদের বৈরি আবহাওয়া মোকাবিলা করতে হয়। বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে পাট বীজ বুনতে হয়েছে। খরার সময়ে পাটের জমিতে মাঝেমধ্যে সেচ দিতে হয়েছে। এতে পাট চাষের খরচ বেড়ে গেছে। বর্তমানে কোন-কোন এলাকায় আগাম জাতের পাট কাটা শুরু হয়েছে। এ পাট কেটে অনেকে আমন ধান রোপন করছেন। খাল-বিলে পানি না জমায় দূরে নিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে। ঋতু পরিক্রমায় বর্ষাকাল চলছে। কিন্তু বর্ষার রূপ আকাশে ঘন কালো মেঘ, ঝমঝম বৃষ্টি নেই। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত খালবিলে পানি আসেনি, ভরেনি নদ-নদী। এ বছর পাটের দামও ভালো। কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে মহা-দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পাটচাষীরা।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) উপজেলার নারায়নপুর, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, স্বরুপদাহ, ফুলসারা, চৌগাছা সদর ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কিছু কিছু এলাকায় পাট কাটাশুরু করেছেন কৃষকরা। তবে পাট ভালো হলেও পানির অভাবে জাগ দিতে পারছেন না কৃষকরা। অনেকে কেটে জমিতে রেখে দিয়েছেন। উপজেলার রাজাপুর গ্রামের চাষী আতিয়ার রহমান জানান, এবার চাষ করা পাটের ভালো ফলন হবে। তবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আছি। আমরা পাট কাটা শুরু করেনি। তবে আমাদের এলাকায় আগাম বুনা পাট অনেকে কাটছেন। নতুন পাট বাজারে প্রতি মণ দুই হাজার ৮৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা পাট উন্নয় কর্মকর্তা নিপা বিশ্বাস বলেন, উপজেলায় এ বছর ২৫৭৫ জন কৃষক পাট চাষ করেছেন। এ অঞ্চলে এবার পাট ভালো হয়েছে। তবে পানি ও জায়গার অভাবে পাট জাগে সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে সমস্যা কেটে যাবে বলে জানান তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, চলতি বছর উপজেলায় জি আর ও ৫২৪ জাতের ১৮৬০ হেক্টর ও তুষা ৮ রবি জাতের ২ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় পাট কাটাশুরু করেছেন কৃষকরা। তবে পাট ভালো হলেও পানির অভাবে জাগ দিতে পারছেন না কৃষকরা। পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চাষীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৩০ জুলাই ২০২৪,/বিকাল ৫:২৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit