বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ- যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪
  • ৮৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে নতুন করে সহযোগিতা শুরু করেছে, যা এ অঞ্চলে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাইডেন প্রশাসনের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের উদ্বেগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখছে।

তবে এবার ভিন্ন বার্তা নিয়ে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন লু। তিনি বিরোধী নেতা এবং অধিকারসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বৈঠক এড়িয়ে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং জলবায়ু উদ্যোগ জোরদার করার দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিচ্ছে— এই পরিবর্তন এমনটিই ইঙ্গিত দেয়। লু স্বীকার করেছেন, পূর্ববর্তী নির্বাচনি সতর্কতা যদিও উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল, তবে তিনি এখন এগিয়ে যাওয়ার এবং আস্থা পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশ ওয়াশিংটনের কাছে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। ভারত ও মিয়ানমারের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা এই দেশটিকে চীনের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে মূল্যবান মিত্র হিসেবে দেখা হয়।জানুয়ারির নির্বাচনের মাত্র এক মাস পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ করার ‍‍`আন্তরিক ইচ্ছা‍‍` প্রকাশ করেন। তাদের লক্ষ্য একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিসহ বিভিন্ন ইস্যু মোকাবিলা করা।

গত পাঁচ দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও বহুজাতিক ইস্যুগুলোকে ঘিরে জটিল সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানির শীর্ষ গন্তব্য, যা ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশকে দুঃসময়ে ৬ কোটি ১০ লাখের বেশি কোভিড-১৯ টিকা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

ইতিবাচক দিক সত্ত্বেও ২০২১ সালটি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশের র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভার্চুয়াল সামিট ফর ডেমোক্রেসিতে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি বাইডেন প্রশাসন। তারা ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো ও সামরিক খাতে বিনিয়োগ করে। বাংলাদেশ তার যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভারত ও চীন উভয়ের সঙ্গে ভালো দরকষাকষি করে। তবে কোয়াডের মতো কাঠামোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সহযোগিতা বাড়ানো এই ভারসাম্যকে জটিল করে তুলেছে।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের স্বার্থ

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড ঢাকা সফর করেন। তিনি একটি খসড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে সই করেন। একই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের অর্থায়নে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এ ঘটনা বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেছে।

অবকাঠামো উন্নয়নই বাংলাদেশের অগ্রাধিকার। চীন উল্লেখযোগ্য সমর্থন দিচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার, যা অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ব্যবসায়িক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তারপরও তারা দুর্নীতি ও মানবাধিকার ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করে। দুর্নীতির দায়ে বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারের ওপর সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা এই দৃষ্টিভঙ্গিকেই তুলে ধরেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ এড়িয়ে বাংলাদেশ সরকারের ওপর প্রভাব বজায় রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে যোগাযোগ একটি কৌশলগত পুনর্বিবেচনার প্রতিফলন। এই দৃষ্টিভঙ্গি গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগের সঙ্গে তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৯ মে ২০২৪,/রাত ৮:৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit