শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া কখন ও কীভাবে দিতে হয়

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০২৪
  • ১১১ Time View

ডেস্ক নিউজ : যে বৃদ্ধ বা অসুস্থ ব্যক্তির রোজা রাখার সামর্থ্য নেই এবং পরবর্তীতে কাজা করতে পারবে— এমন সম্ভাবনাও নেই, এমন ব্যক্তি রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া প্রদান করবে।  (সুরা বাকারা: ১৮৪)

ছাবেত আলবুনানী (রহ.) বলেন, আনাস ইবনে মালেক (রা.) যখন বার্ধক্যের কারণে রোজা রাখতে সক্ষম ছিলেন না তখন তিনি রোজা না রেখে (ফিদিয়া) খাবার দিতেন।  (মুসান্নাফে আবদুর রাযযযাক, হাদিস ৭৫৭০)

ইকরিমা (রহ.) বলেন, আমার মা প্রচণ্ড তৃষ্ণা-রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং রোজা রাখতে সক্ষম ছিলেন না। তার সম্পর্কে আমি তাউসকে (রহ.) জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘প্রতিদিনের পরিবর্তে মিসকীনকে এক মুদ (বর্তমান হিসাবে পৌনে দুই কেজি) পরিমাণ গম দান করবে।  (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস ৭৫৮১)

মাসআলা

এক রোজার পরিবর্তে এক ফিদিয়া ফরজ হয়। এক ফিদিয়া হল, কোনো মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ানো অথবা এর মূল্য প্রদান করা।

হজরত সায়ীদ ইবনে মুসায়্যিব (রহ.) বলেন—(আর যাদের রোজা রাখা অত্যন্ত কষ্টকর তারা ফিদিয়া—একজন মিসকিনকে খাবার প্রদান করবে) এই আয়াত রোজা রাখতে অক্ষম বৃদ্ধের জন্য প্রযোজ্য।  (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস ৭৫৮৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৬)

যাদের জন্য রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া দেওয়ার অনুমতি রয়েছে তারা রমজানের শুরুতেই পুরো মাসের ফিদিয়া দিয়ে দিতে পারবে।  (আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৭)

উপরোক্ত দুই শ্রেণীর মানুষ ছাড়া (অর্থাৎ দুর্বল বৃদ্ধ ও এমন অসুস্থ ব্যক্তি, যার ভবিষ্যতে রোজার শক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই) আরো যাদের জন্যে রোজা ভাঙা জায়েজ আছে, (যেমন, মুসাফির, গর্ভবতী ও শিশুকে স্তন্যদানকারিণী) তারা রোজা না রাখলে রোযার ফিদিয়া দেবে না; বরং পরে কাজা করবে। 

আর ওযরের হালতে মৃত্যুবরণ করলে কাজা ও ফিদিয়া কিছুই ওয়াজিব হবে না। অবশ্য ওযরের হালত শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ মুসাফির মুকিম হওয়ার পর, গর্ভবতী নারীর সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া ও স্রাব বন্ধ হওয়ার পর এবং স্তন্যদানকারিণী স্তন্যদান বন্ধ করার পর যদি মৃত্যুবরণ করে তাহলে ওযর শেষে যে কয়দিন সময় পেয়েছে সে কয়দিনের কাজা জিম্মায় আসবে। কাজা না করলে উক্ত দিনগুলোর ফিদিয়া প্রদানের ওসিয়ত করে যেতে হবে।  (আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৩—৪২৪; কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ ১/২৫৫)

আরও পড়ুন: তারাবির নামাজ পড়িয়ে বিনিময় নেওয়া যাবে কি?

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, গর্ভবতী নারী ও শিশুকে স্তন্যদানকারিণীর জন্যে রমজানে রোজা না রাখার অবকাশ রয়েছে। তারা ফিদিয়া আদায় করবে না; বরং রোজাগুলো কাযা করে নেবে।  (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস ৭০৬৪)

ছুটে যাওয়া রোজার কাজা সম্ভব না হলে মৃত্যুর পূর্বে ফিদিয়া দেওয়ার ওসিয়ত করে যাওয়া জরুরি। ওসিয়ত না করে গেলে ওয়ারিশরা মৃতের পক্ষ থেকে ফিদিয়া দিয়ে দিলে আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন। 

তবে মৃতব্যক্তি ওসিয়ত না করে গেলে সেক্ষেত্রে মিরাসের ইজমালী সম্পদ থেকে ফিদিয়া দেওয়া হবে না। একান্ত দিতে চাইলে বালেগ ওয়ারিশরা তাদের অংশ থেকে দিতে পারবে।  (রদ্দুল মুহতার ২/৪২৪-—৪২৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭)

এক রোজার ফিদিয়া একজন মিসকিনকে দেওয়া উত্তম। তবে একাধিক ব্যক্তিকে দিলেও ফিদিয়া আদায় হয়ে যাবে। একাধিক ফিদিয়া এক মিসকিনকে দেওয়া জায়েজ।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যে বৃদ্ধ রোজা রাখতে সক্ষম নন তিনি রোজা না রেখে প্রতি দিনের পরিবর্তে একজন মিসকিনকে আধা সা (অর্থাৎ প্রায় পৌনে দুই কেজি) গম দিয়ে দেবেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস ৭৫৭৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৮৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৭)

কিউএনবি/অনিমা/১৯ মার্চ ২০২৪/দুপুর ১:৫৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit