বিনোদন ডেস্ক : বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গোটা দেশে শোকার্ত। এদিকে ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাইলেন। শোকার্ত অভিনেতা নিহতদের প্রতি শোক ও তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শুক্রবার (১ মার্চ) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন।
শাকিব খান লেখেন, ‘গত রাতে বেইলি রোডে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের আগে সেখানে বেশিরভাগ মানুষ হয়তো গিয়েছিলেন তাদের প্রিয়জন নিয়ে আনন্দময় কিছু সময় কাটাতে। কেউ গিয়েছিলেন শপিংয়ে বা পরিবার-পরিজন নিয়ে ফ্রি টাইমে খাওয়া-দাওয়া করতে। কিন্তু এক নিমিষেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড থামিয়ে দিয়েছে এতোগুলো জ্বলজ্যান্ত জীবন। স্বজন হারিয়ে অনেকের ভবিষ্যৎ জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অমানিশা! অনেকের তিলে তিলে গড়ে তোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে।’
এ সময় অভিনেতা এর আগে ঘটে যাওয়া সীতাকুণ্ড ট্র্যাজেডি, ঢাকার বনানী, চকবাজার, বঙ্গবাজার, নিউমার্কেটেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘কিছুদিন পরপর অগ্নিকাণ্ডে এতো এতো তরতাজা প্রাণ অকালে চলে যাওয়া এবং ক্ষয়ক্ষতি কোনোভাবে কাম্য নয়। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।’এ সময় অভিনেতা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রশংসা করে বলেন,জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সবসময় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা মোকাবিলা করে, সাধারণ মানুষের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন, সেই সব ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের জানাই সেলুট।
তিনি আরও লেখেন, বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করছি। হাসপাতালে যারা সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন, তারা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন সেই কামনা করছি। মহান সৃষ্টিকর্তা শোক সন্তপ্ত পরিবারের সকলকে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার দান করুক। জানা গেছে, বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৭৫ জনকে জীবিত উদ্ধার হয়েছে। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও ৪২ জনকে। একই পরিবারের পাঁচজনসহ মারা গেছেন ৪৬ জন। এর মধ্যে ঢামেক হাসপাতালে ৩১, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ এবং রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় তিনটি মরদেহ।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পান তারা। প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ৯টা ৫৬ মিনিটে। পরে আগুনের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়লে আরও ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে পুলিশ, আনসার, র্যাব ও এনএসআই। ১৩টি ইউনিটের ২ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
কিউএনবি/আয়শা/০১ মার্চ ২০২৪,/দুপুর ২:৩৩