শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন

ইবাদতে ব্যস্ত থাকা ব্যক্তির জন্য আল্লাহর সুসংবাদ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১৫৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : অবসর মানে ব্যস্ততা থেকে খালি হওয়া। ইবাদতের জন্য অবসর হওয়ার অর্থ হলো, আখিরাতের জীবনকে সামনে রেখে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালিত করা। মহান আল্লাহ হাদিসে কুদসিতে তাঁর ইবাদতের জন্য অবসর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতের জন্য অবসর হও। আমি তোমার বক্ষ অভাবমুক্ত করে দেব এবং তোমার দরিদ্রতা দূর করে দেব।

আর যদি সেটা না করো (অর্থাৎ আমার ইবাদতের জন্য অবসর না হও), তবে তোমার দুই হাত ব্যস্ততা দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার অভাব-অনটনের পথ কখনো বন্ধ করব না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৬৬)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতের জন্য অবসর হও। তাহলে আমি তোমার অন্তর ধনী বানিয়ে দেব এবং তোমার দুই হাত রিজিক দিয়ে পূর্ণ করে দেব। হে আদম সন্তান! আমার (ইবাদত) থেকে দূরে সরে যেয়ো না! তবে আমি তোমার হৃদয় দারিদ্র্য দিয়ে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার দুই হাত ব্যস্ততা দিয়ে ভরে দেব।’ (মুস্তাদরাক হাকেম, হাদিস : ৭৯২৬)

সব কাজ থেকে যথা সময়ে নিজেকে অবসর করে নিয়ে আল্লাহর অভিমুখী হওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ তাঁর রাসুল (সা.)-কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘অতএব যখন অবসর পাও, ইবাদতের কষ্টে রত হও এবং তোমার রবের দিকে রুজু হও।’ (সুরা : ইনশিরাহ, আয়াত : ৭-৮)

এ আয়াতের তাফসিরে ইবনু কাসির (রহ.) বলেন, ‘যখন তুমি দুনিয়ার কাজকর্ম ও ব্যস্ততা থেকে অবসর হবে এবং দুনিয়ার যাবতীয় সম্পৃক্ততা থেকে মুক্ত হবে, তখন ইবাদতে আত্মনিয়োগ করো এবং অন্তরকে খালি করে সক্রিয়ভাবে ইবাদত সম্পাদন করো। আর নিয়ত ও আগ্রহকে একমাত্র তোমার রবের জন্য বিশুদ্ধ করো।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির, ৮/৪৩৩)

ইবাদতের জন্য অবসর তিন ভাগে বিভক্ত : (১) মনের অবসর, (২) শরীরের অবসর ও (৩) সময়ের অবসর।

মনের অবসর : মনের অবসর হলো, গভীর মনোযোগী হয়ে ইবাদত করা, অন্তরকে লৌকিকতামুক্ত করা, নিয়ত পরিশুদ্ধ করা।

শরীরের অবসর : শরীরের অবসর হলো, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত করা এবং পাপাচার থেকে বিরত রাখা, জিহ্বাকে জিকরে ব্যস্ত রাখা, সত্য কথা বলা, লজ্জাস্থানের হেফাজত করা, পেট হারাম খাদ্য থেকে বিরত রাখা ইত্যাদি।

সময়ের অবসর : সময়ের অবসর হলো, নির্দিষ্ট সময় ইবাদতের জন্য বরাদ্দ  রাখা। যেমন : প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জন্য সময় বরাদ্দ রাখা, প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি।

সব কিছুর ওপর আল্লাহর ইবাদতের অগ্রাধিকার ইবাদতের জন্য অবসর হওয়ার জন্য অন্যতম শর্ত হলো, দুনিয়ার সব কাজের ওপর আল্লাহর আনুগত্য প্রাধান্য দেওয়া। কেননা দুনিয়াতে মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।
তবে ইবাদতে মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে। কারণ সামর্থ্যের অতিরিক্ত আমল করা শুরু করলে কয়েক দিন পরে সেটাতে বিরক্তি চলে আসবে। তাই ইবাদতে মধ্যপন্থা অবলম্বন বাঞ্ছনীয়। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমল করতে থাকো। কারণ আল্লাহ (সওয়াব দানে) ক্লান্তিবোধ করেন না, যতক্ষণ না তোমরা (আমল সম্পাদনে) ক্লান্ত হয়ে পড়ো। আর আল্লাহর কাছে ওই আমল সবচেয়ে প্রিয়, যা অল্প হলেও নিয়মিত করা হয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৮৬১)

আল্লাহর ইবাদতের জন্য অবসর হওয়ার সর্বশেষ স্বরূপ হলো, ইবাদতে ইস্তিকামাত তথা অবিচল থাকা। আর ইবাদতে অবিচল থাকার অর্থ হচ্ছে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়মিত আল্লাহর আনুগত্য করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন। অতএব তোমরা তাঁর দিকেই দৃঢ়ভাবে গমন করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো।’ (সুরা : হা-মিম সাজদাহ, আয়াত : ৬)

মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।

কিউএনবি/অনিমা/০১ জানুয়ারী ২০২৪/বিকাল ৩:২২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit