শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

সংশোধিত আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন, মেয়াদোত্তীর্ণ ইউপিতে বসবে প্রশাসক

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১৫৯ Time View

ডেস্কনিউজঃ পৌরসভা ও জেলা পরিষদের মতো মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক বসানো যাবে- এমন বিধান রেখে ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) আইন, ২০২৩’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সংশোধিত খসড়া আইন অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের পদবি বদলে হচ্ছে ‘ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা’।

সংশোধিত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সরকার একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগ দেবে। নতুন ইউনিয়ন ঘোষণা করা হলেও একই বিষয় প্রযোজ্য হবে। নির্বাচিত পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক ইউপির যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন। নিযুক্ত প্রশাসক একবারের বেশি বা ১২০ দিনের বেশি দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। তবে কোনো দৈবদুর্বিপাকের কারণে সরকার এই মেয়াদ ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়াতে পারবে। অতিমারি, মহামারিসহ বিশেষ ক্ষেত্রে ওই মেয়াদ যৌক্তিক সময় পর্যন্ত বাড়াতে পারবে। বিদ্যমান আইনে এ ধরনের কোনো বিধান নেই।

চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শপথ নেওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিদ্যমান আইনে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বর্তমান আইনে দৈবদুর্বিপাকজনিত বা অন্যবিধ কোনো কারণে নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন না হলে সরকার লিখিত আদেশ দিয়ে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কিংবা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত (যা আগে ঘটবে) সংশ্লিষ্ট পরিষদকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্ষমতা দিতে পারবে। এ সংক্রান্ত বিধান এবার বাতিল হচ্ছে।

সংশোধনীর খসড়ায় দায়িত্ব হস্তান্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়, নতুন পরিষদ গঠনের আগের চেয়ারম্যান তার দখলে থাকা পরিষদের অর্থ, সম্পদ, রেজিস্টার ও সিলমোহর দ্রুততম সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি হিসাবে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার উপস্থিতিতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়াকে হস্তান্তর বোঝানো হয়েছে।

চেয়ারম্যান পদত্যাগ করতে চাইলে লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আবেদন করবেন। আবেদন গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার পদ শূন্য হবে। বিদ্যমান আইনে ইউএনওর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা বলা আছে। তবে কার দ্বারা পদত্যাগপত্র গৃহীত হলে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হবে, তা উল্লেখ নেই। সুতরাং আইনে এ সংশোধনী আনা হয়েছে। এছাড়া পরিষদে কর্মরত কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্য, বিভ্রান্তিকর, অসত্য ও ভুল তথ্য দিলে তাকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান না করলে ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৫০ টাকা অর্থদণ্ড হবে। আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্ধারিত সম্মানি পাবেন। বিদ্যমান আইনে বলা হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা সরকার নির্ধারিত সম্মানি পাবেন। এই সংশোধনীর ফলে কোনো চেয়ারম্যান ও সদস্য কোনো অপরাধের কারণে বরখাস্ত হলে বরখাস্তকালীন তিনি কোনো সম্মানি পাবেন না। অর্থাৎ দায়িত্ব পালন না করলে সম্মানি পাবেন না। সম্মানি পাওয়া দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালত পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের দেওয়া দায়িত্ব পালন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। গ্রাম আদালত পরিচালনার বিষয়টি বিদ্যমান আইনে নেই। তাই গ্রাম আদালত পরিচালনা সংশোধিত আইনে যুক্ত করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের বর্জা সংগ্রহ, অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সংশোধিত আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে বর্জ্য গ্রহণ, অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কোনো ধারা নেই।

কিউএনবি/বিপুল/০৯.১০.২০২৩/ সন্ধ্যা ৬.১৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit