রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
এক সঙ্গে দেখা হতে পারে দুই মহাতারকার শিক্ষক দিবসে ১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেবে সরকার, প্রত্যেকে পাবেন ১ লাখ টাকা আগ্নেয় ছাইয়ে ঢেকে গেছে আকাশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৩০১ ফ্লাইট ব্যাহত মেসির বিদায়ি ম্যাচ নিয়ে রহস্য, অপেক্ষায় ভক্তরা পাকিস্তানের অন্য প্রদেশগুলোই পাঞ্জাবের জন্য বড় হুমকি: মরিয়ম নওয়াজ প্রতিবছর বিপিএল অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী পেপারবিহীন সংসদ প্রতিষ্ঠায় ই-পার্লামেন্ট চালুর উদ্যোগ ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে পরিবেশ-জলবায়ু সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান মন্ত্রীর ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

তিন তারা হারিয়ে পিএসজির কী হবে?

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট, ২০২৩
  • ১৪৯ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : লক্ষ্য ছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সামর্থ্যও ছিল দলের। কিন্তু দুইয়ে দুইয়ে চার মেলেনি পিএসজির। মেসি-নেইমার-এমবাপ্পের রথে চড়ে পিএসজি যেন যুদ্ধক্ষেত্রের উল্টো স্রোতে গা ভাসিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হতাশা ছাড়া কিছুই আসেনি ক্লাবটির পক্ষ থেকে। শুধু এই তিন তারকা নয়, পিএসজিতে সার্জিও রামোস, মারকুইনহোস, আশরাফ হাকিমি, মার্কো ভেরাত্তিসহ অনেকেই ছিলেন। তবুও অন্ধকার বালুময় মরুতে আলো এবং জল খুঁজে পায়নি ফরাসি শিবির।


পিএসজিও আটকায়নি মেসির চলে যাওয়া। ক্লাবটির সভাপতি নাসের আল-খেলাইফিও ছিলেন অনেকটা নিশ্চুপ। তিনিও হতাশ ছিলেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা না পেয়ে। এত তারকা খেলোয়াড় থাকতেও যদি দল লক্ষ্য অর্জন করতে না পারে, তাহলে তাদের রেখে লাভ কী? এমন প্রশ্ন নিশ্চয়ই এই কাতারিয়ান ধনকুবেরের মনেও ছিল। কোনো তর্কের বাইরে সেরা তারকা সমৃদ্ধ দল যখন ফল বের করতে না পারে, তখন সেটি হয়তো খেলাইফির মতে ‘তারকা দোষে দুষ্ট’ হওয়ার মতো বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। হয়তো সেজন্য তিনিও মনে মনে বলেছিলেন, ‘দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো’

মেসি চলে যাওয়ার পরে যেন এক কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়ে পিএসজি। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো করে আর্জেন্টাইন তারকাও যেন সকল ভক্তদের ফ্রান্স থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেলেন। আর মেসির ক্লাব ছাড়ার খবরে একে একে যেন বেরিয়ে আসতে থাকে ‘থলের বিড়াল’। প্রথমে মেসি বলেছিলেন,

আমি যা ভেবেছিলাম পিএসিজ তা না। আমি প্যারিসে এসেছিলাম কারণ ক্লাবটিকে আমি ভালোবাসি। এই ক্লাবের ড্রেসিংরুমে আমার পরিচিত অনেকে ছিল, যারা আমার বন্ধু। আমি ভেবেছিলাম ক্লাবটিতে মানিয়ে নেয়া আমার জন্য সহজ হবে। কিন্তু এখানে মানিয়ে নেয়া খুব কঠিন এবং সেটি এতটাই কঠিন যে আমার ধারণার বাইরে। প্যারিসে আমার পরিবার এবং আমার জন্য খাপ খাইয়ে চলা খুব কঠিন বিষয় হয়ে উঠেছে।

মেসির মতের সঙ্গে সুর মেলাতে দেখা যায় কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট কিলিয়ান এমবাপ্পেকেও। ফ্রান্সের এই বিশ্বকাপজীয় তারকা বলেছিলেন, মেসি একজন বড় তারকা। তার যতটুকু সম্মান প্রাপ্য ছিল সেটি সে পায়নি। আমি এটিই বলব, ফ্রান্সে মেসি যথেষ্ট সম্মান পায়নি। ক্লাব থেকে এমন একজনের বের হয়ে যাওয়া কোনো ভালো ঈঙ্গিত বহন করে না। শুধু ক্লাবের এই বিষয় নয়, আর্জেন্টাইন তারকা যাওয়ার আগে মুখ খুলেছিলেন সেখানকার সমর্থকদের নিয়েও। সে সময়ে মেসি বলেছিলেন, 

শুরুতে যেভাবে তারা আমাকে গ্রহণ করেছিল, তাতে মুগ্ধ হয়েছিলাম। তাদের অভ্যর্থনা খুব সুন্দর ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্যারিসের জনসাধারণের একটি অংশ আমার সঙ্গে অন্যরকম আচরণ শুরু করে। তবে আমি মনে করি, অনেক মানুষ শুরুতে আমার সঙ্গে ভালো আচরণ করেছে। বিষয়টি আমি প্যারিসের সমর্থকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার জন্য বলছি না। তবে আমি মনে করি, তারা এ ধরনের আচরণেই অভ্যস্ত। আমার আগে এমবাপ্পে ও নেইমারের সঙ্গেও এমনটি হয়েছে। আমি এটি সম্পর্কে জানি। তবে আমি তাদের সঙ্গেই থাকতে পছন্দ করি, যারা আমাকে সম্মান করে। আমি তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ওখান থেকে চলে এসেছি। এর বেশি কিছু আর নেই।

পিএসজির তিক্ততা নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে মিডফিল্ডার মার্কো ভেরাত্তির এজেন্ট দোনাতে ডি কাম্পিকেও। কাম্পি বলেছিলেন, প্যারিসে খেলোয়াড়দের কারারুদ্ধ থাকতে হয়। ক্লাব যা চায় সেটাই করতে হবে, নিজের চাওয়ার মূল্য সেখানে নেই। এটা কারাগারের মতো এবং সেখানে আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করা হবে।

ভেরাত্তির বিষয়ে ডি কাম্পি বলেছিলেন, 

পিএসজিতে যাওয়ার পর থেকে ভেরাত্তি জেলের মধ্যে ছিল।

লিওনেল মেসি। ছবি : সংগৃহীত
পিএসজি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন লিওনেল মেসি। ছবি : সংগৃহীত

খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্টদের এমন মন্তব্যের পরে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে পিএসজির খ্যাতি যেন ম্লান হয়ে আসে। সার্জিও রামোসসহ আরও অনেকে মেসির পথ অনুসরণ করতে থাকেন। সেই পথেই যেন হাঁটলেন নেইমার এবং এমবাপ্পে। শুরুতে এমবাপ্পে পিএসজিতে থাকার ঘোষণা দিলেও কিছুদিন পরে নিজের মত পাল্টে ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে চলতি মৌসুম শেষ করে যেতে চেয়েছেন। এরপরে পিএসজি তাকে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাব দিলেও সেটিতে রাজি হননি ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী তারকা। হয়তো সেটি এমবাপ্পের কাছে ‘কারারুদ্ধের’ মতোই লেগেছে। 


এ দিকে ইউরোপীয় গণমাধ্যমের দাবি, বার্সেলোনার সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা ব্রাজিল তারকা নেইমারকে নিতে বেশ আগ্রহী। এছাড়াও বার্নার্দো সিলভা বার্সেলোনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ায় নেইমারের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে আবারও বার্সায় ফেরার। তবে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পিএসজির সঙ্গে চুক্তি রয়েছে ব্রাজিলিয়ানের। তাই মোটা অংকের অর্থের প্রস্তাব পেলে নেইমারকে ছেড়ে দিতে পারে ফরাসি ক্লাবটি। সবমিলিয়ে নেইমার এবং এমবাপ্পে পিএসজি ছাড়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। 
খেলোয়াড়দের এমন সিদ্ধান্তের কারণে পিএসজির প্রতি ফুটবল ভক্তদের আকর্ষণও কমতে থাকে। তারকাদের বিদায়ের বিপরীতে এই মুহূর্তে নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়ানো নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে পিএসজি। কয়েকজনের দলটিতে যাওয়ার খবরও জানা গেছে। ৫০ মিলিয়ন ইউরোতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৯৬ কোটির বেশি) প্যারিসে পাড়ি জমিয়েছেন উসমান দেম্বেলে। এছাড়া পর্তুগালের ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড গনসালো রামোসকেও নেয়ার খবর জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত নতুনদের নিয়ে পুরোনো ব্যথা ভুলে পিএসজি কতটুকু সফল হতে পারে সেটিই এখন সময়ের অপেক্ষা। 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৮ অগাস্ট ২০২৩,/বিকাল ৪:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit