স্পোর্টস ডেস্ক : লক্ষ্য ছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সামর্থ্যও ছিল দলের। কিন্তু দুইয়ে দুইয়ে চার মেলেনি পিএসজির। মেসি-নেইমার-এমবাপ্পের রথে চড়ে পিএসজি যেন যুদ্ধক্ষেত্রের উল্টো স্রোতে গা ভাসিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হতাশা ছাড়া কিছুই আসেনি ক্লাবটির পক্ষ থেকে। শুধু এই তিন তারকা নয়, পিএসজিতে সার্জিও রামোস, মারকুইনহোস, আশরাফ হাকিমি, মার্কো ভেরাত্তিসহ অনেকেই ছিলেন। তবুও অন্ধকার বালুময় মরুতে আলো এবং জল খুঁজে পায়নি ফরাসি শিবির।
মেসি চলে যাওয়ার পরে যেন এক কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়ে পিএসজি। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো করে আর্জেন্টাইন তারকাও যেন সকল ভক্তদের ফ্রান্স থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেলেন। আর মেসির ক্লাব ছাড়ার খবরে একে একে যেন বেরিয়ে আসতে থাকে ‘থলের বিড়াল’। প্রথমে মেসি বলেছিলেন,
আমি যা ভেবেছিলাম পিএসিজ তা না। আমি প্যারিসে এসেছিলাম কারণ ক্লাবটিকে আমি ভালোবাসি। এই ক্লাবের ড্রেসিংরুমে আমার পরিচিত অনেকে ছিল, যারা আমার বন্ধু। আমি ভেবেছিলাম ক্লাবটিতে মানিয়ে নেয়া আমার জন্য সহজ হবে। কিন্তু এখানে মানিয়ে নেয়া খুব কঠিন এবং সেটি এতটাই কঠিন যে আমার ধারণার বাইরে। প্যারিসে আমার পরিবার এবং আমার জন্য খাপ খাইয়ে চলা খুব কঠিন বিষয় হয়ে উঠেছে।
মেসির মতের সঙ্গে সুর মেলাতে দেখা যায় কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট কিলিয়ান এমবাপ্পেকেও। ফ্রান্সের এই বিশ্বকাপজীয় তারকা বলেছিলেন, মেসি একজন বড় তারকা। তার যতটুকু সম্মান প্রাপ্য ছিল সেটি সে পায়নি। আমি এটিই বলব, ফ্রান্সে মেসি যথেষ্ট সম্মান পায়নি। ক্লাব থেকে এমন একজনের বের হয়ে যাওয়া কোনো ভালো ঈঙ্গিত বহন করে না। শুধু ক্লাবের এই বিষয় নয়, আর্জেন্টাইন তারকা যাওয়ার আগে মুখ খুলেছিলেন সেখানকার সমর্থকদের নিয়েও। সে সময়ে মেসি বলেছিলেন,
শুরুতে যেভাবে তারা আমাকে গ্রহণ করেছিল, তাতে মুগ্ধ হয়েছিলাম। তাদের অভ্যর্থনা খুব সুন্দর ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্যারিসের জনসাধারণের একটি অংশ আমার সঙ্গে অন্যরকম আচরণ শুরু করে। তবে আমি মনে করি, অনেক মানুষ শুরুতে আমার সঙ্গে ভালো আচরণ করেছে। বিষয়টি আমি প্যারিসের সমর্থকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার জন্য বলছি না। তবে আমি মনে করি, তারা এ ধরনের আচরণেই অভ্যস্ত। আমার আগে এমবাপ্পে ও নেইমারের সঙ্গেও এমনটি হয়েছে। আমি এটি সম্পর্কে জানি। তবে আমি তাদের সঙ্গেই থাকতে পছন্দ করি, যারা আমাকে সম্মান করে। আমি তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ওখান থেকে চলে এসেছি। এর বেশি কিছু আর নেই।
পিএসজির তিক্ততা নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে মিডফিল্ডার মার্কো ভেরাত্তির এজেন্ট দোনাতে ডি কাম্পিকেও। কাম্পি বলেছিলেন, প্যারিসে খেলোয়াড়দের কারারুদ্ধ থাকতে হয়। ক্লাব যা চায় সেটাই করতে হবে, নিজের চাওয়ার মূল্য সেখানে নেই। এটা কারাগারের মতো এবং সেখানে আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করা হবে।
পিএসজিতে যাওয়ার পর থেকে ভেরাত্তি জেলের মধ্যে ছিল।

খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্টদের এমন মন্তব্যের পরে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে পিএসজির খ্যাতি যেন ম্লান হয়ে আসে। সার্জিও রামোসসহ আরও অনেকে মেসির পথ অনুসরণ করতে থাকেন। সেই পথেই যেন হাঁটলেন নেইমার এবং এমবাপ্পে। শুরুতে এমবাপ্পে পিএসজিতে থাকার ঘোষণা দিলেও কিছুদিন পরে নিজের মত পাল্টে ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে চলতি মৌসুম শেষ করে যেতে চেয়েছেন। এরপরে পিএসজি তাকে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাব দিলেও সেটিতে রাজি হননি ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী তারকা। হয়তো সেটি এমবাপ্পের কাছে ‘কারারুদ্ধের’ মতোই লেগেছে।
কিউএনবি/আয়শা/৮ অগাস্ট ২০২৩,/বিকাল ৪:৩০