স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) : একেতো প্রচন্ড গরম, তার ওপর বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিয়ে যশোরের মনিরামপুরে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। রাতদিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে কর্তৃপক্ষ গড়ে ১০ ঘন্টাও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছেননা। পৌর শহরে মাঝেমধ্যে সরবরাহ করা হলেও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের দেখা নেয় বললেও চলে। বর্তমান ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের দরুন জনমনে ব্যাপক দূর্ভোগ নেমে এসেছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সদর দপ্তর সূত্রে জানাযায়, দিনরাত মনিরামপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকছে নয় থেকে ১০ ঘন্টা। এর মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় মনিরামপুর পৌরশহরে একটু বেশি সরবরাহ করা হচ্ছে। তাও আবার এক নাগাড়ে বেশিক্ষন নয়, সর্বচ্চো এক ঘন্টা। অন্যদিকে পৌরশহরের বাইরে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং আরো ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দূর্ভোগ। জয়পুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, বিদ্যুৎ কখন আসে তা মানুষ আর খোঁজ খবর রাখেনা।
বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাসপা গরমের মধ্যে জনজীবন নাকাল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া প্রচন্ড গরমের কারনে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এমনটি জানা গেছে দূর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পৌরসভা বালিকা বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে আলাপ করে। পৌরসভার গাংড়া এলাকার মিজানুর রহমান জানান, অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় বিশেষ করে রাতের বেলা হাতপাখা নিয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে অবস্থান করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলনা করতে গিয়ে জালঝাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বলেন, বর্তমান বিদ্যুতের যে পরিস্থিতি তা বিএনপির আমলকেও হার মানিয়েছে।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক বলেন, একেতো প্রচন্ড গরম, তার উপর অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মানুষ পড়েছে মহাবিপাকে। অন্যদিকে পৌর শহরের মহাদেবপুরে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠান জেএস স-মিল এন্ড ট্রিটমেন্টপ্লান্টের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারনে প্লান্টের উৎপাদন প্রায় বন্ধ হতে বসেছে। আবার পৌরশহরেরে আল আমিন মেটালের সত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধির ফলে নির্ধারিত সময়ে মালামাল তৈরী করা সম্ভব হচ্ছেনা।
ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তুলসি বসু বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারনে ব্যবসা করা দুরুহ হয়ে পড়েছে। আর এ ধরনের চিত্র রাজগঞ্জ, নেহালপুর, চিনাটোলাা, কুয়াদা, ঢাকুরিয়া, রোহিতা, হরিহরনগর, মশ্বিমনগর, ঝাঁপা, চালুয়াহাটি, মনোহরপুরসহ উপজেলার প্রতিটি এলাকায়। ফলে জনসাধারনের মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে দিন দিন অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যাপারে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২(মনিরামপুর)এর জেনারেল ম্যানেজার আবদুল লতিফ বলেন, সমিতির আওতাধীন( মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর, নড়াইল, লোহাগড়া, কালিয়া )পিক আওয়ার এবং অফপিক আওয়ার গড়ে প্রতিদিন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে প্রয়োজন ১০৫ মেগাওয়াট। কিন্তু তার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট। তার ওপর সম্প্রতি সমিতির আওতাধীন নওয়াপাড়া গ্রীডে ক্রুটি দেখা দেওয়ায় একটু বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে আশা করা হচ্ছে দুই একের ভেতর নওয়াপাড়ার গ্রীড পূর্নাঙ্গভাবে সচল হলে পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হবে।
কিউএনবি/আয়শা/৩১ জুলাই ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৪৫