স্পোর্টস ডেস্ক : এমন ফাইনালের প্রত্যাশাই তো থাকে সবার। টানটান উত্তেজনা আর দর্শক উন্মাদনা। সঙ্গে দুই দলের খেলোয়াড়দের গোল উৎসব। আজ কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে সেটাই দেখিয়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি। ৪-৪ গোলে নির্ধারিত সময়ে শেষ করে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-২ গোলে আকাশী-নীলদের পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় সাদা-কালো জার্সিধারী ক্লাবটি। নাটকীয় ফাইনাল জিতে ১০ বছর পর কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতল মোহামেডান। শেষবার ২০১৩ সালে কোটি টাকার সুপার কাপ জিতেছিল তারা। তারও আগে ২০০৯ সালে ফেডারেশন কাপের শিরোপা নিজেদের করেছিল। এই টুর্নামেন্ট জিতল তারা ১৪ বছর পর।
এক যুগেরও বেশি সময় পর ফাইনাল খেলতে নামা মোহামেডানের শুরুটা গোল হজম দিয়ে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ফিরে তারা। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে শুরুতে দিয়াবাতে গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। মোহামেডান অধিনায়কের পর শট নিতে আসেন আবাহনী অধিনায়ক রাফায়েল আগুস্তো। তবে তিনি সফল হতে পারেননি। তার শটটি ঠেকিয়ে দেন সুজনের চোটে মোহামেডানের বদলী গোলকিপার হিসেবে নামা আহসান হাবিব বিপু। মোহামেডানের হয়ে দ্বিতীয় শটটি নিতে যান আলমগীর কবির রানা। তিনিও গোল আদায় করেন। আবাহনীর হয়ে দ্বিতীয় শট নিতে আসা এমেকা পেয়ে যান গোলের দেখা। পরের শটে মোহামেডানকে তৃতীয় গোল এনে দেন রজার। ইউসেফও আবাহনীকে এনে দেন গোল। তখনও ৩-২ গোলে পিছিয়ে আবাহনী।
মোহামেডানের হয়ে শাহরিয়ার ইমনের নেওয়া চতুর্থ শটটি ঠেকিয়ে দেন আবাহনী গোলরক্ষক শহীদুল আলম সুহেল। এতে সমতায় ফেরার সুযোগ ছিল তাদের। কিন্তু কলিন্দ্রেসের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেওয়ায় আর এগিয়ে যেতে পারেনি তারা। পরে মোহমেডানের হয়ে পঞ্চম শটটিতে কামরুল গোল আদায় করলে শিরোপা নিশ্চিত হয় মোহামেডানের। যে শিরোপা জেতার আগে কতবার বদলেছে ফাইনালের রং। সেসবকে ছাপিয়ে ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠেছিলেন দিয়াবাতে। কারণ ফাইনালের প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়েছিল আবাহনী। তবে দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচটাকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান মোহামেডানের মালির ফরোয়ার্ড সুলেমান দিয়াবাতে।
খেলার ১৬ মিনিটে আবাহনীকে এগিয়ে নেন তরুণ ফরোয়ার্ড ফয়সল আহমেদ ফাহিম। পিছিয়ে পড়া মোহামেডান তখন বেশ অগোছালোই ঠেকেছে। সুযোগটা কাজে লাগান কলিনদ্রেস। ৪৩ মিনিটে নিজেদের অর্ধ্ব থেকে হৃদয়ের বাড়ানো বল আয়ত্বে নিয়ে মার্কার হাসান মুরাদকে কোনো সুযোগ না দিয়ে ডান পায়ের জোড়ালো শটে বল দূরের জালে জড়িয়ে দেন কোস্টারিকান তারকা। বিরতির পর গতি পায় মোহামেডানের আক্রমণ ভাগ। ৫৬ মিনিটে ২-১ করেন দিয়াবাতে। ৬০ মিনিটে সমতাসূচক গোলটিও দিয়াবাতের।
৬৬ মিনিটে ডান দিক থেকে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট সুজন কোনমতে সেভ করলেও এমেকা আলতো ট্যাপে গোল করে আবাহনীর লিড পুনরুদ্ধার করেন। তবে ৮৩ মিনিটে কামরুলের কর্নারে দিয়াবাতে হ্যাটট্রিক করে মোহামেডানকে আবার ম্যাচে ফেরান। যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে রাজীব হোসেন রাফায়েলের গড়ানো শট ঠেকিয়ে না দিলে ম্যাচটা হয়তো অতিরিক্ত সময়ে যেতো না।
১০৮ মিনিটে পেনালটি থেকে নিজের চতুর্থ গোল আদায় করে দলকে এগিয়ে নেন দিয়াবাতে। ১১২ মিনিটে চোটে পড়েন মোহামেডান গোলরক্ষক সুজন। তাকে নেমে যেতে হয়। তার বদলী হিসেবে নামেন বিপু। কিন্তু নেমেই বনে যান খলনায়ক। এক মিনিটের মধ্যেই রহমতের গোলে সমতায় ফেরে আবাহনী। ফলে ফাইনালের গড়ায় টাইব্রেকারে। ১৪ বছর পর দেশের ফুটবলের কোনো ফাইনাল গড়িয়েছে পেনালটি শ্যুট আউটে। আর সেখানেই দিয়াবাতেকে ছাপিয়ে নায়ক বনে যান আহসান হাবীব বিপু।
ফেডারেশন কাপের সাম্প্রতিক আসরগুলোর ফাইনাল নির্ধারিত সময়েই শেষ হয়েছে। অতিরিক্ত সময়ে সর্বশেষ গড়িয়েছিল ২০১৫ সালে শেখ জামাল ধানমন্ডি ও মুক্তিযোদ্ধার ম্যাচটি। এরপর আর ফেডারেশন কাপের ফাইনাল অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়নি। ফুটবল ফেডারেশনে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মতে, সেটাই ফেডারেশন কাপের সর্বশেষ অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ।
ফেডারেশন কাপের সর্বশেষ ফাইনালের টাইব্রেকারও আবাহনী-মোহামেডান দুই দলের মধ্যেকার ম্যাচে। ২০০৯ সালের পর আর ফাইনাল টাইব্রেকারে গড়ায়নি। আজ কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে প্রথমে আবাহনী ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। এরপর মোহামেডান ২-২ সমতা আনে। আবাহনী ৩-২ লিড নিলে অধিনায়ক দিয়াবাতের হ্যাটট্রিকে মোহামেডান ৩-৩ স্কোরলাইন করে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নেয়।
কিউএনবি/আয়শা/৩০ মে ২০২৩,/রাত ৮:২৪