ডেস্ক নিউজ : ঋতুমতী! এ শব্দটি শুনলেই হিন্দু সমাজের এক শ্রেণির মানুষ ভ্রঁ কুচকে নেন। আর তথাকথিত ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আছেন ঋতুমতীদের শরীর থেকে একশ হাত দূরে থাকেন। কোনো ধর্মীয় বিধান না থাকলেও ঋতুমতী হলে হিন্দু সমাজে যেকোনো শুভ কাজে ‘অচ্ছুত’ থাকেন নারীরা। আর দুর্গাপূজার মতো মহাপূজায় তো মণ্ডপের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেয়াও যেন বারণ শরীরিক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিশেষ দিনগুলোর সময়। এমনকি পূজার সময় যে বাড়ির মেয়েরা ঋতুমতী হন, ওই বাড়ির লোকদের অনেক ক্ষেত্রে মণ্ডপে ঢুকতেও দেয়া হয় না।
আর সেই ঋতুমতীদের দিয়ে বিশ্ব ঋতুমতী দিবসে এবার কলকাতায় প্রতীকী দুর্গাপূজার উদ্বোধনে করে তাক লাগিয়ে দিলেন স্থানীয় পূজা আয়োজক কমিটি। রোববার বিশ্ব ঋতুমতী দিবসের দিন নারী শক্তি দুর্গা দেবীর প্রতীকী পূজা করে শারদীয় দুর্গা উৎসবের সূচনা করে রীতিমত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পশ্চিমবেঙ্গর রাজধানী কলকাতা পাথুরিয়া ঘাটা পাঁচের পল্লী পূজা কমিটি।
শক্তির দেবী দুর্গা যে শুধু শক্তির দেবী তাই নয় তিনি একজন নারীও। তাই তার আবহানে চিরাচরিত রীতি ভেঙে এদিন সামিল হয়েছিলেন কয়েকজন ঋতুমতী নারীও। ধাতব পিতলের দেবীকে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন এই নারীরা। ঋতুমতীর সময় মেয়েদের ব্যবহার হওয়া স্যানিটারি ন্যাপকিনের সাদা রঙ দিয়ে দেবীর ত্রিশূলের চারদিক ঘিরে দিয়ে বোঝানো হয়েছে সাদা রঙ নারী স্বাধীনতার প্রতীক। পাথুরিয়া ঘাটা পাঁচের পল্লীর এবার পূজার থিম ‘নারীদের ঋতুমতী’।
কিউএনবি/আয়শা/২৮ মে ২০২৩,/রাত ৮:৪০