আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাপুয়াতে অপহৃত নিউজিল্যান্ডের এক পাইলটকে খুঁজতে গিয়ে বিদ্রোহীদের হামলায় ইন্দোনেশিয়ায় কমপক্ষে এক সেনা নিহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার অশান্ত পাপুয়া প্রদেশের এ ঘটনা ঘটেছে। তবে বিদ্রোহীরা দাবি করেছে সংঘর্ষের সময় তারা নয় সেনাকে গুলি করে হত্যা করেছে। এক বিবৃতিতে বিদ্রোহীদের মুখপাত্র সেবি সামবোম জানিয়েছেন, মার্চে ইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী দুই বিদ্রোহীকে গুলি করে হত্যা করেছিল, তার প্রতিশোধ নিতেই তাদের যোদ্ধারা এ হামলা চালিয়েছে।
পাপুয়া বিদ্রোহীরা কয়েক দশক ধরে জাকার্তা থেকে স্বাধীনতা চেয়ে আসছে। পাপুয়ার সামরিক মুখপাত্র কর্নেল হারমান তারিমান জানিয়েছেন, এই সেনারা ইন্দোনেশিয়ার বিমান সংস্থা সুসি এয়ারের হয়ে কাজ করা নিউ জিল্যান্ডের পাইলট ফিলিপ মার্ক মেরটেন্সের খোঁজে তল্লাশিতে নিয়োজিত একটি দলের অংশ ছিল। ফেব্রুয়ারিতে মেরটেন্সকে অপহরণ করে পাপুয়ার বিদ্রোহীরা। পার্বত্য এনডুগা জেলায় একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী ঘাঁটির কাছে নিউজিল্যান্ডের ওই পাইলটকে খুঁজতে গেলে রবিবার ইন্দোনেশিয়ার সেনাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ফার্স্ট অ্যাডমিরাল জুলিয়াস উইজোওনো সাংবাদিকদের বলেছেন, বন্দুকধারীরা একজন সেনাকে গুলি করে। পরে ১৫ মিটার গভীর খাত থেকে ওই সেনার মৃতদেহ উদ্ধার করে তারা। মৃতদেহ উদ্ধারের সময় দ্বিতীয়বার আক্রমণ চালায় বিচ্ছিন্নবাদীরা। তিনি আরো বলেন, ‘অন্যান্য সৈন্যরা যারা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে তাদের অবস্থা এখনও অজানা।’ কর্তৃপক্ষ বলছে প্রায় ৩০ জন সেনার খোঁজে তল্লাশি চালছে।
ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। বিদ্রোহীদের একজন মুখপাত্র সেবি সামবোম এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জাতিসংঘ এবং নিউজিল্যান্ড সরকারের উচিত ইন্দোনেশিয়াকে সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া।’
ফেব্রুয়ারিতে পাপুয়ার প্রত্যন্ত জেলা পারোতে একটি ছোট রানওয়েতে এক ইঞ্জিনের একটি বিমান অবতরণ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিদ্রোহীরা তাতে হামলা চালায় এবং ৩৭ বছর বয়সী পাইলট মেরটেন্সকে ধরে নিয়ে যায়। ছোট এই বিমানটি সেখান থেকে ১৫ জন নির্মাণ কর্মীকে তুলে নিয়ে আসতে গিয়েছিল। এই কর্মীরা সেখানে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করছিলেন কিন্তু বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তাদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল। এরপর একটি ভিডিও প্রকাশ করে বিদ্রোহীরা। তাতে দেখা যায়, পাইলট মেরটেন্সেকে ঘিরে আছে সশস্ত্র কিছু মানুষ। তারা জানায়,পাপুয়াকে স্বাধীনতা দেওয়া হলে তারা তাকে মুক্তি দেবে। মেহার্টেন্সকে একটি দূরবর্তী বিদ্রোহী ঘাঁটিতে বন্দী করে রাখা হয়েছে।
বিদ্রোহী গ্রুপটি বলছে, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের সামরিক সহযোগিতার কারণে ওই পাইলটকে টার্গেট করা হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি।
কিউএনবি/আয়শা/১৭ এপ্রিল ২০২৩,/বিকাল ৩:৫২