ডেস্ক নিউজ : শবেবরাতে যারা মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা, দয়া, রিজিক ইত্যাদি চাইবে তাদের চাওয়া পূরণ করা হবে। তবে এ রাতে মুশরিক ও হিংসুককে খাঁটি তাওবা না করলে ক্ষমা করা হবে না, তাদের চাহিদাও পূরণ করা হবে না। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে (বিশেষভাবে) আত্মপ্রকাশ করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির সবাইকে ক্ষমা করেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৯০)
তবে কারো ভালো কিছু বা উন্নতি দেখে তার বিলুপ্তি কামনা না করে নিজেও তা অর্জনের চেষ্টা করাকে বলা হয় গিবত বা ঈর্ষা, যার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ইবলিস শয়তান হিংসা ও অহংকারের কারণে আদম (আ.)-কে সেজদা না করে বিতাড়িত হয়েছে। আদমপুত্র হাবিলের কোরবানি কবুল হওয়ায়, হিংসাবশত কাবিল তাঁকে খুন করে প্রথম অন্যায় খুনকারী হয়েছে। ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা হিংসা করে তাঁকে কূপে ফেলে নিন্দার পাত্র হয়েছে। এ ছাড়া অসংখ্য-অগণিত মানুষ হিংসার রোগে আক্রান্ত হয়ে নানা অপরাধে জড়িয়েছে-জড়াচ্ছে।
মুনাফিকের স্বভাব হিংসা করা। হিংসার কারণে তারা ঈমানদারদের উন্নতিতে নাখোশ হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের (ঈমানদারদের) কোনো কল্যাণ হলে তারা অসন্তুষ্ট হয়। আর তোমাদের কোনো অকল্যাণ হলে তারা আনন্দিত হয়।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১২০)
পূর্ণ ঈমানদারের অন্তরে হিংসা থাকবে না, হিংসুকের অন্তরে পূর্ণ ঈমান থাকবে না। পূর্ণ মুমিন কখনো হিংসুক হয় না, হিংসুক কখনো পূর্ণ মুমিন হয় না। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো বান্দার অন্তরে ঈমান ও হিংসা একত্র হতে পারে না।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৩১০৯)
হিংসা দ্বিনের বিনাশকারী
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের আগেকার উম্মতের রোগ তোমাদের মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছে। তা হলো পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণা। আর এই রোগ মুণ্ডন করে দেয়। আমি বলছি না, চুল মুণ্ডন করে দেয়; বরং এটা দ্বিন মুণ্ডন তথা বিনাশ করে দেয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫১০)
হিংসা নেকি বিলীনকারী
নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই হিংসা পরিহার করবে। কারণ আগুন যেভাবে কাঠ বা ঘাস খেয়ে ফেলে, তেমনি হিংসাও মানুষের নেক আমল খেয়ে ফেলে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯০৩)
শ্রেষ্ঠ মানুষ কে
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো শ্রেষ্ঠ মানুষ কে? তিনি বললেন, ‘প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী ও সত্যভাষী ব্যক্তি।’ লোকেরা বলল, সত্যভাষীকে তো আমরা চিনতে পারি। কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী ব্যক্তি কে? জবাবে তিনি বললেন, ‘সে হলো আল্লাহভীরু। পরিচ্ছন্ন হৃদয়ের অধিকারী যার কোনো পাপ নেই। সত্যবিমুখতা নেই। বিদ্বেষ নেই, হিংসা নেই।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১৬)
হিংসামুক্ত ব্যক্তিকে জান্নাতের সুসংবাদ
লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া আম্বরশাহ আল ইসলামিয়া, কারওয়ান বাজার, ঢাকা
কিউএনবি/আয়শা/০৮ মার্চ ২০২৩,/বিকাল ৪:২৩