আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের নাবলুসে ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসনের ফলে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের বয়স ২৩ থেকে ৭২ বছরের মধ্যে। আহতদের একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। বলেছে, তাদের সেনারা অধিকৃত পশ্চিম তীর শহরের উত্তাঞ্চলে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
পশ্চিম তীর থেকে এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে টিয়ারগ্যাস ছুড়ছে। ফিলিস্তিনিরা ওই এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছিল। তারা সেনাবাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ছিল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে অভিযান শুরু করে ইসরাইলি সেনারা। তিন ঘণ্টা ধরে অভিযান চালানোর পর সেনা প্রত্যাহার করা হয়। অভিযানে নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের দুই যোদ্ধা রয়েছে। গত বছরেররও বেশি সময় ধরে প্রায়ই অধিকৃত পশ্চিম তীর ও অধিকৃত গাজা উপত্যকায় অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনারা। এসব অভিযানে প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা।
অভিযানে গণগ্রেফতার, চেকপয়েন্ট বন্ধ, হয়রানি ও ঘরবাড়ি ধ্বংস করছে সেনারা। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে তারা। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু ও তরুণ। এছাড়া আরও অন্তত ৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত মাসের শেষের দিকে ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় রক্তাক্ত হয় অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন। গত ২৫ জানুয়ারি জেনিনে অভিযান চালিয়ে ৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে সেনারা। ওই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়।
১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে শতাধিক বসতি স্থাপন করেছে ইসরাইল। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এই বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও ইসরাইল তা মানতে চায় না।
কিউএনবি/আয়শা/২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩/রাত ৮:৩৮