এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর) : চাকরি না পেয়ে এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে হতাশাগ্রস্থ হয়ে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান (২৯)। শুক্রবার (২০ জানুয়ারী) বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের জলকার-মাধবপুর গ্রামে। তিনি জলকার-মাধবপুরগ্রামের মৃত আয়নাল হকের ছেলে।
অতিসম্প্রতি হওয়া সরকারি প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে ভাইভা দিয়েছিলেন হাবিব। তার প্রতিবন্ধী কোটা থাকলেও চূড়ান্তভাবে চাকুরিতে টিকতে পারেনি হাবিব। বন্ধু-বান্ধবীদের চাকরি হয়েছে। এনিয়ে তার মধ্যে ব্যাপক হতাশা ছিলো। তিনি গ্রামে নিজেদের বসতবাড়ির দোতলা শয়নকক্ষের পাশের রুমে ফ্যানের হুকের সাথে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে পরিবারের সদস্য এবং গ্রামবাসীর অনুরোধ ও আবেদনের প্রেক্ষিতে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তছাড়াই দাফনের অনুমতি দেয়া হয়। নিহতের বড়ভাই আনিছুর রহমান জানান, চাকারি না পাওয়ার হতাশা থেকেই হাবিবুর রহমান আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া অন্য কোনো কারন আমাদের জানা নেই। পুলিশের সব রিপোর্টেও সেটাই লেখা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার বিকেলে হাবিবুরদের গ্রামের দোতলা বাড়িতে শয়নকক্ষের পাশের কক্ষে ফ্যানের হুকের সাথে গলায় রশি দিয়ে ঝুলতে দেখে প্রথমে তার ভাইজি ইভা ডাক-চিৎকার শুরু করে। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে রশি কেটে নামিয়ে দেখেন সে মারা গেছে। সংবাদ পেয়ে চৌগাছা থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াসিন আলম চৌধুরী এবং পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়নুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। পরিবারের সদস্যরা ও গ্রামের লোকজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাবিবের মরাদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেয়া হয়। পরে রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়নুল ইসলাম।
তবে চাকরি না পেয়েই সে আত্মহত্যা করেছে এটা অস্বীকার করে হাবিবুরের আরএক ভাই জগন্নাথবিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) থেকে মাস্টার্স শেষ করা মাহবুব রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ওর একটা চোখ নষ্ট। ও সব সময় এজন্য মানুষ থেকে দূরে থাকতো। এরপরে পড়ালেখা করতে করতে আরেকটা চোখে মারাত্মক জ্বালা-যন্ত্রনা শুরু হয়। ও বাড়িতে চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যেতে বলেছিলো। সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট-ভিসা করার প্রক্রিয়াও চলছিলো। এরমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাইভা দেয়ার পরও চাকরি হয়নি। তাই সে আবারোনতুন করে প্রচন্ড লেখাপড়া করতে শুরু করে। এতে তার চোখের ব্যথা আরো বেড়ে যায়। সে ভয় পেয়ে যায় অপর চোখও হয়তো নষ্ঠ হয়ে যাবে। সবমিলিয়ে সে এ ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে।
তিনি বলেন, আমরা ৫ ভাই, ২ বোনের মধ্যে হাবিবুর সবার ছোট। সে ২০১২ সালে এসএসসি ২০১৪ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। বছরখানেক আগে তার লেখাপড়া শেষ হয়। ওর আরো সুযোগ ছিলো বয়সও ছিলো। আমি নিজেই এখনো চাকুরি পাইনি। আমি এসআইতে টিকেছি, সিটি কর্পোরেশনের ইন্সপেক্টরে টিকেছি। চাকুরি পাইনি। আমি তো ওর বড় ভাই। আমি বিশ্বাস করি আমি চাকরি পাবো। ও তো প্রথমবার প্রাইমারিতে টিকেছিলো। ও আরো ভালো চাকরি পেতো। কারণ ওর প্রতিবন্ধী সনদও রয়েছে। চৌগাছা থানার (ওসি) তদন্ত ইয়াসিন আলম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের রোকজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়।
কিউএনবি/আয়শা/২১ জানুয়ারী ২০২৩/সন্ধ্যা ৭:৫০