শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
হরমুজ প্রণালীতে টোল বুথ: জাহাজপ্রতি কত ফি নিচ্ছে ইরান? ব্রিটিশদের পতন ঘণ্টা বাজায় সুয়েজ, হরমুজ কি আমেরিকার জন্য একই পরিণতি বয়ে আনবে? ইরান যুদ্ধের ইতি কবে, জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নীলফামারীতে শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক ইসরাইলি হামলার কঠিন জবাব দেওয়ার ঘোষণা তেহরানের সুয়েজ খাল অচল করে দিতে পারে ইরান সমর্থিত হুথিরা : রিপোর্ট এমপিদের বাসভবন বরাদ্দ কবে, জানালেন চিফ হুইপ কেন আকাশ থেকে শিলা পড়ে, জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হরমুজ প্রণালীকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ আখ্যা, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যে হাসির রোল প্রধানমন্ত্রী সোমবার ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

‘বিএনপি যেন সুন্দরভাবে সমাবেশ করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে’

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৪৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : ঢাকা শহর কিংবা দেশের অন্য কোনো জায়গায় বিশৃঙ্খলা করলে জনগণই বিএনপিকে প্রতিহত করবে মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির উসকানিমূলক বক্তব্যের পরও আমাদের দলকে সংযত আচরণ করার জন্য আমরা নির্দেশ দিয়েছি। আজ শুক্রবার দুপুরে ৫৭তম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা বিএনপি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে। শেখ হেলাল এমপির জনসভায় হামলা করে বেশ কয়েকজন মানুষকে হত্যা করেছিল তারা, আহসান উল্লাহ মাস্টার, ড. এস এম কিবরিয়া এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভাসহ আমাদের সভা-সমাবেশের ওপর বারবার বিএনপি বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। কিন্তু আমরা যখন ক্ষমতায় বিএনপির সমাবেশে একটি পটকাও ফুটে নাই। তারা যাতে সুন্দরভাবে সমাবেশ করতে পারে সেই ব্যবস্থাই সরকার সব সময় নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীন আখতার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন। অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা বিএনপিকে কখনো দমন করার নীতি অবলম্বন করিনি। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন আমাদের কোনো সমাবেশ করতে দেওয়া হতো না। আমাদের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুই পাশে কাঁটাতারের বেড়া থাকত। সেই বেড়ার বাইরে আমরা যেতে পারতাম না।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে ড. হাছান বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপ্তি এবং সুনাম নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু পাঠদান ও ডিগ্রি প্রদান নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে জ্ঞানের চর্চা করা এবং সেই জ্ঞানের চর্চার সঙ্গে বিশ্বাঙ্গনের যোগসূত্র ঘটানো। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ বছরের পথচলার পর আজকে ভাবতে হবে জ্ঞানচর্চার সঙ্গে বিশ্বাঙ্গনের সংযোগ কতটুকু করতে পেরেছে এবং আর কতটুকু করা প্রয়োজন। বিশ্বময় যদি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে দিতে হয় তাহলে কয়েকটি কার্যক্রম গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

তিনি বলেন, একটি বাৎসরিক ক্যালেন্ডার করে এখানে আন্তর্জাতিক সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা। সেখানে কোনটা ন্যাশনাল এবং কোনটা ইন্টারন্যাশনাল সেমিনার-সিম্পোজিয়াম হবে সেটা ঠিক করা। তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়বে, অন্যথায় ছড়িয়ে পড়বে না। আরেকটি আমার প্রস্তাবনা থাকবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কোয়ালিটিপূর্ণ জার্নাল যদি নিয়মিত প্রকাশ পায় এবং সেই জার্নালে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে সেখানে গবেষণালব্ধ আর্টিকল ছাপানো হয় এবং সে জার্নালটা যদি আন্তর্জাতিক মানের প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব এবং মর্যাদাটাকে বাড়াবে। বিশ্বাঙ্গনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ হবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য-এখন অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে আমাদের সবার নজরটা বেশি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন নয়। অবশ্যই অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে পাঠদান ও জ্ঞানচর্চার উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুমাত্রিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক চর্চার উন্নয়ন। সেটির মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন নির্ভর করে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতির চর্চা আরো বাড়ানো প্রয়োজন জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি এখানে আসার সময় একটি ছোট্ট মানববন্ধন দেখেছি, চারুকলা ডিপার্টমেন্টকে এখানে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমি মনে করি, চারুকলা ডিপার্টমেন্টকে একেবারে এই ক্যাম্পাস থেকে সব কিছু গুটিয়ে শহরে পাঠিয়ে দেওয়া একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, এটি আমার ব্যক্তিগত অভিমত। আমি উপাচার্যের সঙ্গে আলাপ করেছি অন্তত মাস্টার্স ডিপার্টমেন্টটা আপাতত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলে আসতে পারে এবং অনার্স ডিপার্টমেন্টটা শহরের ক্যাম্পাসে থাকতে পারে। এখানে অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে।

তিনি বলেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চারুকলা না থাকে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় বর্ণময় কিভাবে হবে। শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম একটি প্রধান অঙ্গ হচ্ছে চারুকলা, আমি এটির পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছি। এই বিশ্ববিদ্যালয় আরো বর্ণময় হোক, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে বিশ্বাঙ্গনেও পরিচিতি লাভ করুক। জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চারও একটি পাদপীঠ হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন অবস্থান করা সোহরাওয়ার্দী হলে যান। সেখানে যেই কক্ষে তিনি থাকতেন, সেখানে অবস্থানরত বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর বেনু কুমার দে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব আবদুল করিম, সাধারণ সম্পাদক ও চিটাগং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফ্ফর আহমদ, চাকসুর সাবেক ভিপি মাজহারুল হক শাহ ও নাজিম উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৮ নভেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/রাত ১১:১৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit