মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

একাডেমিক চাপে মানসিক সমস্যায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৭৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : করোনা পরবর্তী একাডেমিক চাপের কারণে ৭৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এই সংখ্যা সামগ্রিকভাবে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এসব মানসিক সমস্যার পেছনে আছে দীর্ঘ বিরতির ফলে তৈরি হওয়া সেশনজট, পরীক্ষার ফল নিয়ে হতাশা, পড়াশোনায় অনীহা ও পড়া বুঝতে না পারার মতো কারণ।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের ‘মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর একাডেমিক চাপের প্রভাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা’ শীর্ষক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার সংগঠনটি এসব তথ্য তুলে ধরে।

গত ৯ মাসে শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছেন ৪০৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৫৭ জন, স্কুলশিক্ষার্থী ২১৯ জন, মাদ্রাসার ৪৪ জন, কলেজশিক্ষার্থী ৮৪ জন। মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে নারী ২৪২ জন এবং পুরুষ ১৬২ জন।

জরিপে অংশ নেওয়া ৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী জানান, করোনার আগের তুলনায় পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ কমে গেছে তাদের। ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা ঘন ঘন পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছেন। ফলে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। পরীক্ষার সময়ের চেয়ে সিলেবাসের আধিক্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে।

২০ দশমিক ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, স্বল্প সময়ে বড় কোর্স শেষ করার ফলে তারা পড়া বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানান, পড়াশোনার চাপের জন্য তারা পরিবারকে সময় দিতে পারছেন না, যা তাদের মনোবেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৫৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয় ও উদ্বেগ তাদের জীবনকে প্রভাবিত করেছে। এর পাশাপাশি দৈনন্দিন আচার-আচরণ ও ব্যবহারে পরিবর্তন, যেমন মন খারাপ হওয়া, হঠাৎ ক্লান্তি আসা ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা জীবনে প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন ৮০ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী।

মোবাইল, ল্যাপটপ, ডেস্কটপের মতো ডিজিটাল ডিভাইসের ওপর অতিরিক্ত আসক্তি ও নির্ভরতা শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থী।

৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৪৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১ হাজার ৬৪০ জন শিক্ষার্থী জরিপে অংশ নেন। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন বিবেচনায় অংশগ্রহণকারীদের ৬৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের, ২৩ দশমিক ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের, ২ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের।

জরিপে অংশগ্রহণকারী মোট শিক্ষার্থীর মাঝে পুরুষ শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষার্থী যথাক্রমে ৪৩ দশমিক ৯ এবং ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক (অব) ড. মাহমুদুর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের সহকারী অধ্যাপক শাহনেওয়াজ খান চন্দন এবং আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ। জরিপের ফল উপস্থাপন করেন আঁচল ফাউন্ডেশনের গবেষক ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল ওহাব।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৮ অক্টোবর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৭:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit