শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
‘গেরুয়া’ দলে যোগ দিয়ে যে বার্তা দিলেন অভিনেত্রী মানসী ধর্ম যাই হোক, রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের অধিকার সমান : সড়ক প্রতিমন্ত্রী সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত হয়নি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলাম গাজায় ধ্বংসস্তূপে তাবু টানিয়েই চলছে দন্তচিকিৎসা নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে কিভাবে, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না: জেডি ভ্যান্স দেশের সকল ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছে : আইনমন্ত্রী ওজন কমানোর প্রভাবে বদলে যেতে পারে ক্ষুধা, ঘুম ও মানসিক অবস্থা ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? গাজা থেকে ১৮ লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনিকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা ইসরাইলের

ববি’র হলে শিক্ষার্থী নির্যাতন, ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৩৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে-ই বাংলা হলের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে৷ সিট দখলকে কেন্দ্র করে এই মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে৷ এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

মারধরের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থী হলেন আইন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তারেকুজ্জামান তারেক এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান দোলন।

গত ২৩ আগস্ট মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে সিট দখলকে কেন্দ্র করে শের-ই বাংলা হলের পঞ্চম তলায় আবাসিক শিক্ষার্থী এবং আইন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র তারেকুজ্জামান তারেককে মারধোর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন, মার্কেটিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সোহাগ, বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের রাকিবুল হাসান। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দীন আহমেদ সিফাতের অনুসারী। 

মহিউদ্দিন আহমেদ সিফাতকে বঙ্গবন্ধু হল থেকে নামিয়ে দিলে বর্তমানে তিনিও শেরে-ই বাংলা হলের ৪০১৮নং রুম অবৈধভাবে দখল করে আছেন।

এর আগে গত ৫ জুলাই মধ্যরাতে হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শেরে-ই বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান দোলনকে ডেকে নিয়ে ক্যাম্পাসের মাঠে মারধোর করেন একাউন্টিং এ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ রুম্মান ইসলাম। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী দোলনকে সেদিন রাতেই শের-ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করান তার বন্ধুরা। ৎ

এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি বলে জানান মারধরের শিকার মাহমুদুল হাসান দোলন।

২৩ আগস্ট রাতের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিচার চেয়ে শের-ই বাংলা হলের প্রভোস্ট বরাবর গত ২৮ আগস্ট একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

মারধরের ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তারেকুজ্জামান তারেককে মারতে মারতে রুম থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন এবং সোহাগ। রুমের বাইরে নিয়ে এলে তাদের সাথে মারধরে যোগ দেয় আরেক অভিযুক্ত রাকিবুল হাসান।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগে বলেন, গত ২৩ আগস্ট মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে সঙ্গবদ্ধভাবে ৫০১২নং রুমের সামনে আমার উপর নির্বিচারে হামলা, মারধর ও নির্যাতন চালায় গণিত বিভাগের দেলোয়ার (কক্ষ নং ৫০০১), মার্কেটিং বিভাগের সোহাগ (কক্ষ নং ২০০৩) এবং বাংলা বিভাগের রাকিবুল হাসান (কক্ষ নং ৫০০৯)। 

অভিযোগপত্রে আরও বলেন, উক্ত ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তদন্তপূর্বক এর সুষ্ঠু বিচার চাই৷

প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, ওইদিন রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দেলোয়ার ও সোহাগ বিভিন্ন রুমে গিয়ে সিট ফাঁকা আছে কিনা তল্লাশী চালায়৷ এক পর্যায়ে ৫০১২নং কক্ষের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে বেধম মারপিট করে৷

শের-ই বাংলা হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “সাধারণ ছাত্রদের জন্য হল এখন আতঙ্কের নাম। বেশ কিছুদিন ধরে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী হলের বিভিন্ন রুমে রুমে গিয়ে ফাঁকা সিট আছে কিনা এমন খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিভিন্ন সময় জোরপূর্বক ফাঁকা সিটে অবৈধভাবে ছাত্র উঠাচ্ছে। এমতাবস্থায় আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে আছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনের বলেন, “আমি ওই আবাসিক হলের ছাত্র কিন্তু এই মারামারির বিষয়ে কিছুই জানিনা। ওইদিন হলে ছিলাম না এবং মারামারির সাথে জড়িত ছিলাম না।”

অভিযুক্ত সোহাগ বলেন, “আমি মারামারির সাথে জড়িত নই। এরকম কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা তাও আমার জানা নেই। এগুলো মিথ্য অভিযোগ।”

আরেক অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ রুম্মান ইসলামের কাছে মাহমুদুল হাসান দোলনকে মারধরের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এসব তথ্য আপনি কোথায় পেয়েছেন, যেখান থেকে এই তথ্য পেয়েছেন তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন। এসব বিষয়ে কথা বলার মতো সময় আমার নেই।”

শের-ই বাংলা হলের প্রভোস্ট আবু জাফর মিয়া বলেন, “কতিপয় শিক্ষার্থী কর্তৃক ২ জন আবাসিক ছাত্রকে মারধরের ঘটনা শুনেছি। একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হলে ছাত্র উঠানোর দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি। হলে সিট বরাদ্দ দেয়ার ক্ষমতা একমাত্র হল প্রশাসনের।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. খোরশেদ আলম বলেন, “আমি মাহমুদুল হাসান দোলনের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে প্রয়োজনে আর সময় লাগতে পারে।” 

দ্বিতীয়বার গত ২৩ আগস্টের হামলার ঘটনার কোন অভিযোগ তার কাছে আসেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কিউএনবি/অনিমা/০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১২:২৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit