খোরশেদ আলম বাবুল শরীতপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুর জেলা সদরে বে-সরকারি হযরত শাহজালাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শিউলী রাণী ঘোষ (৩৩) নামে এক প্রসূতীর মৃত্যু হয়েছে। শিউলী রাণী নড়িয়া পৌরসভার ঘোষ পাড়া গ্রামের পিন্টু ঘোষের স্ত্রী। সকালে প্রসব বেদনা নিয়ে শিউলী হাসপাতালে ভর্তি হয়। দুপুর ১টার সময় সিজারের জন্য অপারেশন থিয়েটার (ওটি) কক্ষে রোগীকে নেওয়া হয়। সেখানে রোগীকে অবস করেন শরীয়তপুর সদর হাপাতালের তত্ত্বাবধায় ডা. আব্দুস সোবাহান এবং সিজার করেন শাহজালাল হাসপাতালের গাইনী অভিজ্ঞ ডা. আফসানা আক্তার চৌধুরী। সিজার শেষে ওটির টেবিলে প্রসূতী মায়ের মৃত্যু হয়। তবে তার প্রসব করা পুত্র সন্তান সুস্থ আছে। ঘটনার পর থেকে ওই হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও স্টাফ আত্মগোপণ করেন।
নিহতের আত্মীয়দের কাছ থেকে জানাগেছে, সুস্থ অবস্থায় শিউলীকে হযরত শাহজালাল হাসপাতালে ভর্তি করেন তারা। সেখানকার ডাক্তার রোগীর সিজার প্রয়োজন বলে জানায়। ডাক্তার আরো জানায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিজার করা উত্তম। তখন ডাক্তারের পরামর্শে সিজারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডাক্তার রোগীকে ওটিতে নিয়ে যায়। দুপুর একটার পরে জানায় ওটি টেবিলে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আমাদের একজন আত্মীয় নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার বিকাশ ঘোষ। তার সাথে শাহজালাল হাসপাতালের ডাক্তাররা পরামর্শ করে। পরে বিকাশ ঘোষের কথামতো মৃত শিউলীকে বাড়ি নিয়ে যাই। এই ডাক্তারের হাতে আরো অনেক রোগী মারা গেছেন। তাদের পরিবার জানায়, ডাক্তার আব্দুস সোবাহান একজন সরকারি কর্মকর্তা। সদর হাসপাতালে তার ডিউটি ছিল।
সে দুপুর ১টায় একটি বে-সরকারি হাসপাতালে এসে রোগীকে অবস করেন। নির্ধারিত ডিউটির সময় সে বে-সরকারি হাসপাতালে আসায় তাড়াহুরা করছিলেন। তাই রোগীকে সঠিকভাবে অবস করতে পারেনি। এককথায় ডাক্তারের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রোগীকে অবস করা ডাক্তার আব্দুস সোবাহান বলেন, রোগীর দেহের ওজন অনেক বেশী ছিল। তাছাড়া ১০ বছরের বিরতিতে এই বাচ্চা প্রসব করে। ওটিতে রোগীর প্রেশার ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কোন ভাবেই রোগীর প্রেসার স্বাভাবিকে আনা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে রোগীর মৃত্যু হয়। দুপুর একটায় সরকারি দায়িত্বে অবহেলা করে বে-সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়ে সে কোন মন্তব্য করেননি।
কিউএনবি/আয়শা/২৫ অগাস্ট ২০২২, খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৬:৩৮