ডেস্ক নিউজ : প্রেমের টানে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের তরুণ প্রেমকান্ত প্রায় ৪ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে। প্রেমকান্ত এখন বরগুনার তালতলীতে অবস্থান করছেন। সেখানে কথিত প্রেমিকার মুখোমুখি হতে চান এই তরুণ।
শুক্রবার দুপুরে তিনি পৌঁছেছেন উপকূলীয় জেলা বরগুনার তালতলীতে। প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি। কিন্তু ওই তরুণী গনমাধ্যমকে বলেছেন প্রেমকান্তর সাথে শুধুই ফেসবুক বন্ধুত্ব, এর বাইরে কিছুই নয়।
গত ২৪ জুলাই তিনি বরিশাল পৌঁছান। সেখানে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রেমকান্ত।
নেটওয়ার্কিং ইঞ্জিনিয়ার ৩৪ বছর বয়সী প্রেমকান্তের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় বরগুনার তালতলী উপজেলার টিঅ্যান্ডটি এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রী। ওই ছাত্রী বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়েন।
তার দাবি ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্রে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ফেসবুকে টানা তিন বছর ধরে তাদের কথা চলে আসছে। প্রেমকান্ত মনস্থির করেন প্রেমিকাকে সরাসরি দেখবেন। এরপরই তামিলনাড়ু থেকে প্রথমে বরিশালে আসেন তিনি।
প্রেমকান্ত বলেন, বরিশালে আসার পর প্রেমিকার সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। তবে দ্রুতই পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
ঘটনার বর্ণনায় প্রেমকান্ত বলেন, ২০১৯ সালে ফেসবুকে তালতলীর ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশে আসার পর বরিশালের একটি রেস্টুরেন্টে তাদের দুজনের দেখা হয়। এর একদিন পর প্রেমকান্ত জানতে পারেন, তালতলীর এক যুবক চয়ন হালদারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক আছে তার প্রেমিকার।
এরপরই প্রেমিকা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এমনকি চয়নের হাতে মারধরও খেতে হয়েছে বলে জানান প্রেমকান্ত। পরে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের হেফাজতে থাকতে হয়েছে তাকে।
পুলিশ বাংলাদেশের ভারতীয় হাই কমিশনে যোগাযোগ করলে প্রেমকান্তকে ভারতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঢাকার গাড়িতে উঠিয়ে দিলেও পালিয়ে তিনি বরগুনায় চলে আসেন প্রেমিকার সাথে আরেকবার দেখা করার জন্য।
কিন্তু ওই তরুণী গণমাধ্যমকে জানান, প্রেমকান্তর সাথে শুধুই ফেসবুক বন্ধুত্ব, এর বাইরে কিছুই নয়। এখন সে যা করছে তা আমাকে এবং আমার পরিবারকে হেয় করার জন্য। আর সেটা করছে সে ভাইরাল হওয়ার জন্য।
এত কিছুর পরও প্রেমকান্তের বিশ্বাস, দেখা হলে হয়তো প্রেমিকা আবার ফিরে আসবে।
কিউএনবি/অনিমা/০৬.০৮.২০২২/দুপুর ২.০২