শান্তা ইসলাম নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনা সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে গর্ত করে মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এলাকার বালু ব্যবসায়ী এ কে এম শামীমের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে একই গ্রামের মো. ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে বিজ্ঞ আমলী আদালত নেত্রকোনা সদর, নেত্রকোনায় মামলা করেন। মামলার বাদী বিষয়টি গতকাল রোববার সাংবাদিকদের জানান।
অভিযোগে জানা গেছে, নেত্রকোনা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মো. ইদ্রিস আলীদের পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। ওই কবরস্থানে ইদ্রিস আলীর ও তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনকে কবর দেওয়া হয়। গত ১০ মে একই গ্রামের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে বালু ব্যবসায়ী এ কে এম শামীম কবরস্থানের জায়গা গর্ত করে মাটি কেটে বিক্রি করেন। ইদ্রিস আলী বাধা দিতে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি প্রদান করা হয়। এতে কবরস্থানের ক্ষতি ও পবিত্রতা নষ্ট হয়। এ ঘটনায় মো. ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে এ কে এম শামীমের বিরুদ্ধে গত ১৯ মে বিজ্ঞ আমলী আদালত নেত্রকোনা সদর, নেত্রকোনায় মামলা করেন।
বালু ব্যবসায়ী এ কে এম শামীম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকার একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে আমার সাথে শত্রুতা করছে। আমি বালুর ব্যবসা করি। আমার জায়গা ওরা নিজেদের দাবী করছে। বালু রাখার স্থান সমান করা হয়েছে। কবরস্থান থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হয়নি। মিথ্যে অভিযোগে ওরা আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। আমার জায়গা দখল করে গাছ লাগিয়েছে। আমি কাউকে কোন ধরনের হুমকি দেইনি। নিশ্চিন্তপুর গ্রামে ছোয়াব মিয়া বলেন, আমরা ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি ওই জায়গা ইদ্রিস আলীর পরিবার ভোগ দখল করছে। কিছুদিন আগে শামীম কবরের জায়গা গর্ত করে মাটি তুলে বিক্রি করেছে। মেদনী ইউনিয়নের সাবেক সদস্য দৌলত মিয়া বলেন, এই জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
মামলার বাদী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, এই জায়গায় আমাদের পরিবারের চারটি কবর ছিল। আমি বাড়িতে না থাকায় সুযোগে কবরস্থানের মাটি কেটে বিক্রি করে দেয় শামীম। আমাদের বাড়ির মাটি সব এই কবরের নিচু জায়গায় ভেঙ্গে চলে যাচ্ছে। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, আদালত থেকে এখনও কোন ধরনের নির্দিশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশ পাওয়া গেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিউএনবি/আয়শা/২৩.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৫:৫৯