শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

মাঙ্কিপক্স ঠেকাতে যে ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২২ মে, ২০২২
  • ১৭৩ Time View

ডেস্কনিউজঃ বাংলাদেশে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সব বিমান ও স্থলবন্দরে সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আক্রান্ত দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং স্ক্রিনিং জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

বিশ্বের অন্তত ১৪টি দেশে মাংকিপক্স শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার এই সতর্কতা জারি করেছে।

এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাংকিপক্সের জন্য এখনই কোনো ভ্যাকসিনের প্রয়োজন নেই। তবে তারা বলেন, ভাইরাসটি প্রতিরোধ করার জন্য বেশ কিছু কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশে একসময় গুটিবসন্ত দূরীকরণের জন্য টিকা দেয়া হতো।

আন্তর্জাতিক গবেষকরা বলেছেন, গুটিবসন্তের টিকা নিলে তা মাংকিপক্সের বিরুদ্ধেও ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দিয়ে থাকে। কারণ, এ দু’টি ভাইরাসের অনেক মিল আছে।

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, এখনই টিকা নেয়ার পরামর্শ দেয়া যাবে না। বরং এটা প্রতিরোধ করতে কিছু কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, এখনই আমরা কাউকে ভ্যাকসিন নিতে এডভাইস করবো না। কারণ, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এটার কোনো প্রয়োজন নেই। এটা বললে মানুষ অহেতুক চেষ্টা করবে ভ্যাকসিন নেয়ার। বরং কিছু কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

মাংকিপক্স সম্পর্কে একটা গাইডলাইন তৈরি করা, বিমানবন্দরে কেস ডিটেকশন, ট্রেনিং দেয়া, ল্যাবরেটরি ডায়াগনোসিস, যদি কোনো রোগী আসে তার চিকিৎসার জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা। এগুলো করতে পারলে বাংলাদেশে ব্যাপক হারে ছড়ানোর সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করেন তিনি।

মাংকিপক্স সম্পর্কে গবেষকরা বলেন, এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত, এটি মৃদু অসুস্থতা সৃষ্টি করে। মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার বাইরে এ রোগ খুবই বিরল।

এই ভাইরাসটি গুটি বসন্ত রোগের ভাইরাসের মতো একই গোত্রের। কিন্তু অনেক কম মারাত্মক, এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সংক্রমিত হবার সম্ভাবনাও কম।

স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে যে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, যাদের ফুসকুড়ি দেখা যায় এবং যিনি সম্প্রতি মাংকিপক্সের নিশ্চিত কেস আছে এমন দেশগুলো ভ্রমণ করেছেন, অথবা এমন কোনো ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করেছেন। যিনি নিশ্চিত অথবা সন্দেহজনক মাংকিপক্স রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন, এমন রোগীদের সন্দেহজনক রোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সন্দেহজনক ও লক্ষণযুক্ত রোগীকে কাছের হাসপাতালে বা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে মাংকিপক্সের রোগী শনাক্ত হয়েছে। মাংকিপক্স নতুন কোনো রোগ নয়। আগে এই রোগটিকে পশ্চিম আফ্রিকা বা মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোয় অ্যান্ডেমিক হিসেবে ধরা হতো।

সম্প্রতি এসব দেশ ভ্রমণের ইতিহাস নেই, তারপরেও ইউরোপ ও আমেরিকায় বসবাসকারী, এমন ব্যক্তিদের মধ্যে মাংকিপক্স শনাক্ত হয়েছে।

অধিদফতর বলছে, এ বিষয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ-নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা আইইডিসিআরকে তথ্য জানাতে হবে।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা: এ এস এম আলমগীর বলেন, মাংকিপক্সে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসা করা হলে সুস্থ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এটার লক্ষণ দেখেই চিকিৎসা করা সম্ভব। যেমন র‍্যাশ হলে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে। ফুসকুড়িটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেখান থেকে সংক্রমণ টা ছড়ায়। সেগুলোর ম্যানেজমেন্ট ভালো হলে সেরে যায়। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনিতেই সেরে ওঠে। দুই থেকে চার সপ্তাহ লাগে এটা ভালো হতে।

আইইডিসিআর বলছে, মাংকিপক্সের জন্য একটি ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই রোগের সংক্রমণের হার এতই কম যে সেটা উৎপাদন করে বাজারজাত করার এখনই সময় আসেনি।

এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ১৪টি দেশে ৮০ জনেরও বেশি দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ১১টি ইউরোপিয়ান দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া।

সূত্র : বিবিসি

কিউএনবি/ বিপুল/ ২২.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/ রাত ১১.২৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit