রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

ভরা গ্রীষ্মে বিভিন্ন অঞ্চল কুয়াশাচ্ছন্ন

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৮ মে, ২০২২
  • ১৩৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : ভরা গ্রীষ্মে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা মিলছে কুয়াশার। বিশেষ করে নরসিংদী, গাইবান্ধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, নোয়াখালী জেলায় ঘণ কুয়াশার দেখা মিলছে। গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকেই কুয়াশার ছবি পোষ্ট করছেন। গ্রীষ্মের সকালে এমন কুয়াশা দেখে অবাক হচ্ছেন সবাই।

এই কুয়াশা ভোর পাঁচটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত থাকছে। যা সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে যায়। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর ফগ অ্যালার্ট বা কুয়াশা সতর্কতা জারি করেছিল।

শেরপুরের নালিতাবাড়ি এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা মো. আউয়াল হোসেন বলেন, “আমার বাড়ি থেকে অফিসে যাওয়ার সময় পথে মধুটিলা বলে একটা জায়গা পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে দেখলাম বেশ ঘন কুয়াশা।”

অন্যদিকে কুয়াশাচ্ছন্ন মহাসড়কের ছবি ফেসবুকে পোষ্ট করে একজন লিখেছেন, “কয়েকদিন ধরে ঝুম বৃষ্টি, আর আজ সকালে দেখি কুয়াশা। শীতকালের মতো না হলেও বেশ ঘন কুয়াশা। আবার অন্যদিকে গরমও আছে। খুব অদ্ভুত লাগলো, কারণ গরমে এমন কুয়াশা চোখে পড়ে না।”

বিভিন্ন জেলা থেকে অনেকেই কুয়াশা সম্পর্কে জানাচ্ছেন। গণমাধ্যমেও এনিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। খোলা জায়গায়, ধানক্ষেত ও মহাসড়কে এমন কুয়াশা বেশি দেখা যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাতেও হালকা কুয়াশা দেখা গেছে। ওদিকে একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে যেটি ধীরে ধীরে আরও শক্তি সঞ্চার করছে। ঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। যা সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অসময়ে কুয়াশার কারণ কি?

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলছেন, “মেঘ তাপমাত্রা ধরে রাখে। গরমকালে যখন মধ্যরাতের দিকে আকাশ পরিষ্কার থাকে, মানে মেঘ সরে যায় তখন শেষ রাতের দিকে স্থলভাগের তাপমাত্রা কমে আসতে থাকে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এটা হয়। একই সময়ে আবার বাতাসে যদি আর্দ্রতা অনেক বেশি থাকে সেটা নিচের দিকে চলে এসে কুয়াশা রূপ নেয়।”

তিনি আরও বলেছেন, “এই মৌসুমে এমন কুয়াশা নজিরবিহীন না হলেও খুব একটা ঘটে না এমন।”

সাধারণত শীতের সময় তাপমাত্রা কম থাকে এবং মাটিতে থাকা আদ্রতা উপরে উঠে গিয়ে কুয়াশা তৈরি করে। এছাড়া ‘অ্যাডভেকশন ফগ’ বা মাটির তুলনায় বাতাস উষ্ণ এবং আদ্রতা বেশি থাকার কারণে যে কুয়াশা তৈরি হয়ে ভেসে বেড়ায়। এছাড়া যেখানে তাপমাত্রার উঠানামা বেশি থাকে সেখানেই কুয়াশা তৈরির সুযোগ বেশি থাকে।

দেশর আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ও আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, “কুয়াশা তৈরির পেছনে বাতাসের আদ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্য দায়ী থাকে। তবে এবার রাতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আগেই কুয়াশা তৈরি হয়ে যাচ্ছে। আর বাতাস কম থাকার কারণে কুয়াশা সরে যেতে পারছে না।”

তিনি বলেন, “কুয়াশা আইসের (বরফের) একটা অংশ। এটা আমাদের দেশে ছোট থাকে, অন্যান্য দেশে তাপমাত্রা অনেক কমে যায় বলে সেটা বড় আকার ধারণ করে ঝড়ে পড়ে, যাকে স্নো বলে। আমাদের দেশে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকে বলে স্নো হয় না, তবে মাঝে মাঝে বৃষ্টির মতো ছোট ছোট ফোটা হয়ে ঝড়ে পড়ে।”

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং চীনেও কুয়াশা তৈরি হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন বলেন, “পৌষ মাসে বা পৌষ মাসের শেষে কুয়াশা অস্বাভাবিক কিছু নয়।” তবে ঘন কুয়াশা তৈরির পেছনে কিছু কারণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘের মতো হয় কিন্তু নিচের মাটি ঠাণ্ডা থাকার কারণে এটি উপরে ওঠে না। এর সাথে যোগ হয় ধুলা এবং গাড়ির ধোঁয়া।”

ঢাকা দূষণের শহর হওয়ার কারণে এখানে ধুলা এবং ধোঁয়ার আধিক্য থাকে। যার কারণে কুয়াশাও ঘন হয়।

এক্ষেত্রে ভারতের রাজধানী দিল্লির উদাহরণ টেনে ড. হাফিজা খাতুন বলেন, “সেখানে ঘন কুয়াশার অন্যতম কারণ পরিবেশ দূষণ। আমাদের দেশেও বিশেষ করে ঢাকা শহরে একই ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।”

অধ্যাপক ড. নাজনীন আফরোজ হক বলেন, “দূষণ বেশি হলে কুয়াশাও বেশি হবে।”

এশিয়াতে বাংলাদেশ এবং ভারতে ঘন কুয়াশা বেশি হয়। পাকিস্তানে কুয়াশা হলেও ঘন কুয়াশা কম হয় বলে জানান তিনি।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

কিউএনবি/অনিমা/৮ই মে, ২০২২/২৫ বৈশাখ, ১৪২৯/দুপুর ১:১৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit