সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
৯ জুলাইয়ের মধ্যে সিটিজেন্স চার্টার হালনাগাদের নির্দেশ মাউশির বাংলা একাডেমিতে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে শেষ শ্রদ্ধা রোনালদো বনাম ইয়ামাল: আইবেরিয়ান ডার্বিতে ফুটবল বিশ্বের নজর মৃত্যুর দেড় বছর পর আসামি খালাস এত যুদ্ধ থামালাম, তবুও নোবেল পেলাম না—ট্রাম্পের আফসোস স্পিকার ও ১১ দলকে কোরআনের আয়াত শুনিয়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ করল ইরান ২০২৭ সালে কমলাপুর পর্যন্ত চালু হচ্ছে মেট্রোরেল মায়ানমার সীমান্তে নজরদা‌রি বা‌ড়ি‌য়ে‌ছে সরকার : পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাইকার সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদারের প্রত্যাশা মির্জা ফখরুলের পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহের মাঝেই চীন-রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়া

আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২২
  • ১০৭ Time View

ডেস্ক নিউজ : আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এ দিনে স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকা। সব কিছু তছনছ করে মহা ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সেই সময় এতবড় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি উপকূলের মানুষ আর কখনো হয়নি। 

তাই আজও ২৯ এপ্রিল আসলে স্বজন হারা মানুষের কান্নায় ভারি হয় উপকূলের পরিবেশ। সেদিন জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়ে অকালে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মৃতি উপকূলবাসীকে এখনো তাড়ায়। বেদনা অশ্রু ভারাক্রান্ত হন তারা।

ক্ষতিগ্রস্তদের মতে, সেদিন আবহাওয়া বিভাগ উপকূলীয় এলাকায় ৯নং সতর্ক সংকেত জারি করলেও অজ্ঞতার বশে লোকজন নিরাপদ স্থানে না যাওয়ায় মহা দুর্যোগের শিকার হন। রাত ১০টার পর ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতায় সাগরের পানি মুহূর্তেই লোকালয়ে ঢুকে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবলীলায় অনেক মা হারায় সন্তান, স্বামী হারায় স্ত্রী, ভাই হারায় বোনকে। অনেক পরিবার আছে যাদের গোটা পরিবারই পানির স্রোতে হারিয়ে গেছে। ২৯ এপ্রিলের সে ভয়াল স্মৃতি মনে করে এখনও কাঁদেন স্বজন হারানো উপকূলবাসী।

প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় ১৯ জেলার ১০২ থানা ও ৯টি পৌরসভায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন নিহত, ১২ হাজার ১২৫ জন নিখোঁজ, ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪ জন আহত হন। মাছ ধরার ট্রলার, নৌকা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ-পালা, চিংড়ি ঘের, স্কুল-মাদরাসা, পানের বরজ, লাখ লাখ গবাদি পশু, ব্রিজ কালভার্ট ভেঙ্গে গিয়ে ক্ষতি সাধিত হয় কয়েক হাজার কোটি টাকার। তাই ২৯ বছর পরও অতীতের স্মৃতি মুছতে পারেনি উপকূলবাসী।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৫৬১ সালের জলোচ্ছ্বাসেও উপকূলের বিপুল মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ১৭৬২ সালে, ১৭৯৫ সালের ৩ জুন, ১৮৯৭ সালের ২৪ অক্টোবরে, ১৯০৫ সালের ২৯ এপ্রিলে, ১৯৬৩ সালের ২৭ মে, ১৯৭২ সালের অক্টোবরে, ১৯৯৭ সালের নভেম্বরে, ১৯৬৫ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে কুতুবদিয়া-দ্বীপসহ উপকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে কুতুবদিয়া খুদিয়ার টেক নামক একটি এলাকা পুরো বিলীন হয়ে গেছে।

১৯৯১ সালের এ দিনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে, কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর উপ-দ্বীপ ধলঘাটা-মাতারবাড়ি, পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়ন, কুতুবদিয়ার প্রায় পুরো উপজেলা এবং সদরের বৃহত্তর গোমাতলী এলাকায়। ওখানে অধিকাংশ বাড়ি থেকে পরিবারের ৫-৬ জন লোক মারা যান। অনেক যৌথ পরিবারে ৪০ জন মারা যায়। তাই এ দিনটিতে এখনও স্বজন হারানোর বেদনায় বিলাপ করেন অনেকে।

কিউএনবি/অনিমা/২৯শে এপ্রিল, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৫:৩৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit