শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নভোএয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ পাকিস্তানে বাস খাদে পড়ে নিহত ৪০ নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা এক মাস বাড়ালো ইসি বড় পর্দায় বিশ্বকাপ দেখার স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালাবে ডিএমপি সুখরঞ্জন বালী অপহরণে সরাসরি জড়িত ছিলেন এএসপি ফজলুর মাটিরাঙ্গায় বর্ণিল আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ এর শুভ উদ্বোধন। গুড়গুড়ি উত্তরপাড়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষরা ৬০টি আম গাছ কেটে ফেলেন ॥ আশুলিয়ায় মোটর চালক দলের মতবিনিময় সভা  দেবীগঞ্জে ৩ বছরেও শেষ হয়নি সড়ক নির্মাণকাজ, ঠিকাদারের অবহেলার অভিযোগে মানববন্ধন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়, জানাজা শনিবার

পুতিনকে ‘সাইকোপ্যাথ’ বলা মডেলের মৃতদেহ মিলল স্যুটকেসে

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৮ মার্চ, ২০২২
  • ৭৩ Time View

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বছরখানেক আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘সাইকোপ্যাথ’ বলেছিলেন তিনি। তার পর থেকেই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না রাশিয়ার মডেল গ্রেটা ভেদলারের। বছরখানেক পর সেই মডেলের দেহ মিলেছে সম্প্রতি। দুমড়েমুচড়ে রাখা, একটি স্যুটকেসবন্দি অবস্থায়!

কেন খুন হলেন রাশিয়ার ওই ২৩ বছরের মডেল? পুতিন-বিরোধী হওয়ায় জন্যই কি দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হল তাকে? অনেকে দুইয়ে দুইয়ে চার করলেও রাশিয়ার পুলিশের দাবি, গ্রেটার সাবেক প্রেমিক দিমিত্রি কোরোভিনই তাকে খুন করেছেন। এমনকি, জেরায় সে কথা স্বীকারও করেছেন দিমিত্র। পুলিশের দাবি, এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ নেই।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন গ্রেটা। পুলিশের কাছে দিমিত্রির দাবি, পরের মাসেই গ্রেটাকে খুন করেন তিনি। কী ভাবে?

২৩ বছরের দিমিত্রি পুলিশকে জানিয়েছেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে টাকাপয়সা নিয়ে গ্রেটার সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল তার। তার পরই তাকে খুন করেন তিনি। এর সঙ্গে গ্রেটার রাজনৈতিক মতাদর্শ বা পুতিন-বিরোধী হওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।

গ্রেটা নিখোঁজ হলেও গত এক বছরে নেটমাধ্যমে তার বহু পোস্ট দেখা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দিমিত্রিই ওই পোস্টগুলি করতেন। যাতে সকলে মনে করেন, তিনি জীবিত। এ কথাও নাকি স্বীকার করেছেন দিমিত্রি।

গ্রেটার নানা পোস্ট ভেসে উঠতে থাকলেও সন্দেহ হয়েছিল ইউজেনি ফস্টার নামে তার এক বন্ধুর। ইউক্রেনের যুদ্ধে যে খারকিভ শহর প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, সেখানকার বাসিন্দা ইউজেনি পুলিশের কাছে গ্রেটার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। মস্কোর এক বন্ধুর সাহায্যে পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি।

খারকিভের ওই ব্লগারের অভিযোগের ভিত্তিতে দিমিত্রিকে গ্রেফতার করেছে রাশিয়ার পুলিশ। রাশিয়ান তদন্তকারী কমিটির এক ভিডিও’য় দেখা গিয়েছে, নিজের অপরাধ স্বীকার করছেন দিমিত্রি। কী ভাবে গ্রেটাকে খুন করলেন, তা-ও জানিয়েছেন তিনি।

দিমিত্রি জানিয়েছেন, গ্রেটাকে খুন করার পর একটি হোটেলের ঘরে তার দেহের সঙ্গে তিন রাত্রি কাটিয়েছেন। তার পর গাড়িতে করে মস্কো থেকে প্রায় ৫০০ কিমি দূরে লিপেৎসক অঞ্চলে গ্রেটার দেহ নিয়ে গিয়েছিলেন। ওই গাড়ির পিছনে মালপত্র রাখার জায়গায় একটি স্যুটকেসের মধ্যে রাখা ছিল গ্রেটার দেহ। দেহ-সহ সেই গাড়ি ওখানেই ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলেন দিমিত্রি।

বছরখানেক ধরে লিপেৎসক অঞ্চলে ওই গাড়ির মধ্যে স্যুটকেসবন্দি অবস্থায় গ্রেটার দেহ পড়েছিল।

গ্রেটার যে পোস্ট নিয়ে এত হইচই হচ্ছে, তাতে কী লিখেছিলেন তিনি? নেটমাধ্যমে পুতিনের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেছিলেন গ্রেটা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, রাশিয়ার আধিপত্য বাড়ানোর জন্য পুতিন চেষ্টা করছেন বলেও মত ছিল তার। সেই সঙ্গে প্রতিবাদীদের উপর রাশিয়ার দমনপীড়ন নীতি নিয়েও চিন্তিত ছিলেন গ্রেটা।

নেটমাধ্যমে গ্রেটা লিখেছেন, ‘ছোটবেলায় পুতিনকে অপমানিত হতে হয়েছিল। তবে (কিছুটা) খর্বকায় চেহারার জন্য প্রতিবাদ করতে পারেননি তিনি। আশ্চর্যের নয় যে আইনের পাঠ ছেড়ে পুতিন পরে কেজিবি-তে যোগ দেবেন।’

পুতিনকে নিয়ে গ্রেটার পর্যবেক্ষণ, ‘কিছু লোকজন ছোটবেলা থেকেই ভিতু গোছের হন। বিকট শব্দ বা অন্ধকারকে ভয় পান। অচেনা লোকজন দেখলেও কেঁপে ওঠেন। এ ধরনের লোকরা ছোট থেকেই কথাবার্তায় তেমন পটু নন। তারা সংযমী ও সতর্ক হয়ে বেড়ে ওঠেন। আমার মনে হয়, ওঁর (পুতিন) মধ্যে এক জন সাইকোপ্যাথ বা সোশিয়োপ্যাথ ফুটে উঠেছে।’

নিজের ভক্তদের জন্য গ্রেটা লিখেছেন, ‘সাইকোপ্যাথদের মধ্যে সব কিছুই বেশি বেশি করার প্রবণতা থাকে। সে কারণেই তারা ঝুঁকি নিতে ভালবাসে। তীব্র অভিজ্ঞতা, দারুণ সব নাটকীয় কাজকর্মে ভরা জীবন চান তারা।’

পুতিনের ‘আগ্রাসন’ নিয়েও কড়া মন্তব্য করলেও গ্রেটা লিখেছেন, ‘হয়তো তিনি (পুতিন) সত্যিই রাশিয়ার অখণ্ডতা বজায় রাখতে চান। রাশিয়ানদের ভালর জন্যই প্রার্থনা করেন! তবে তেমনটা সত্যিই করতে পারেন কি?’ পুতিনের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গ্রেটা। তার তির্যক মন্তব্য, ‘আমার মনে হয়, এই প্রশ্নের উত্তর আপনারা ভালই জানেন!’

২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে নিজের দেশেই বিরোধিতার মুখে পড়েছেন পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সরব হওয়া নাগরিক সমাজের বিরুদ্ধে দমনপীড়নেরও অভিযোগ উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে। এই আবহে গ্রেটার খুন নিয়েও স্বাভাবিক ভাবেই নানা প্রশ্ন উঠছে।

কিউএনবি/অনিমা/১৮ই মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৭:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit