ডেস্ক নিউজ : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল।
সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীনের নেতৃত্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। পরে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরতে সকাল ১১টায় উপাচার্যের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য উপাচার্য বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করতে পারা অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের বিষয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের নেতৃত্ব প্রদান এবং জেড ফোর্স গঠনের মাধ্যমে সম্মুখসমরে অংশগ্রহণ ছিল জিয়াউর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
উপাচার্য আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জাতীয় সংকটের প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব সংঘটিত হয়। এদিন সিপাহীরা জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসে ৭ নভেম্বর বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দর্শন, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ স্মরণীয়। একইভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং আপসহীন নেতৃত্ব শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর, শহীদ ও সেক্টর কমান্ডারদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জাতীয় দায়িত্ব। ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করার অর্থ হলো জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করা।
আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাছির আহমাদ। সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ সহ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও অন্যান্যরা।
এদিকে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ ও অগ্রগতি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ প্রয়াত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে নারীদের নামাজের স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন উপস্থিত ছিলেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মোস্তফা হাসানের সভাপতিত্বে মাহফিল পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম শেখ মো. সালাউদ্দিন।
দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কিউএনবি/অনিমা/০৭ নভেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:১৬