ডেস্ক নিউজ : আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ, দুর্যোগে সব সেবা নিশ্চিত করাসহ সাত দফা সুপারিশ করা হয়েছে। আসন্ন ৩১তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ-৩১) সামনে রেখে প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনবিষয়ক জাতীয় প্ল্যাটফর্ম।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের (আইডিএমভিএস) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই সুপারিশমালা ও নীতি-প্রস্তাবনা প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও তীব্র তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। এসব পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তিদের সংকট আরও গভীর হয়। প্রচলিত আগাম সতর্কবার্তা সবাই ঠিকমতো বুঝতে না পারা, উদ্ধার কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাব এবং আশ্রয়কেন্দ্রের প্রবেশ উপযোগী অবকাঠামো না থাকা তাদের জীবন ও সম্পদকে বাড়তি ঝুঁকিতে ফেলে।
প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ করা হয়, দুর্যোগের সময় শারীরিক আঘাত, মানসিক ট্রমা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন না পাওয়ার কারণে অনেকেই নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধিতার শিকার হন। এ কারণে দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিক সুরক্ষাকেও জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনার অংশ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কপ-৩১-এর প্রেসিডেন্সি, আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্প্রদায় ও নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে দেওয়া সাত দফা সুপারিশের প্রথমটিতে বৈশ্বিক জলবায়ু সুবিচারের অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষার স্বীকৃতি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলার তহবিলে তাদের জন্য নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ ও অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। এছাড়া প্রতিবন্ধী নারীদের বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে জেন্ডার-সংবেদনশীল ও টেকসই অভিযোজন এবং জীবিকায়ন কর্মসূচি গ্রহণের কথাও তুলে ধরা হয়ে।
অনুষ্ঠানে নীতি-প্রস্তাবনা ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন জাতীয় প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডিএমভিএসের অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধি মো. জাহিদুল ইসলাম।
বাংলাদেশ থেকে কপ-৩১ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশা তুলে ধরেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের (সিগ্রিইআর) উপপরিচালক রউফা খানম।
সমাপনী বক্তব্যে আইডিএমভিএসের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া টেকসই দুর্যোগ সহনশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।
ন্যাশনাল প্ল্যাটফর্ম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি-ইনক্লুসিভ ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপ্টেশন, বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্টের (সিডিডি) কারিগরি সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।
কিউএনবি/অনিমা/০৫ নভেম্বর ২০২৬,/রাত ৮:২০