আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হতাশাজনক ফলের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পদে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই খবর জানা গেছে। তবে পদ পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সূত্রের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী হারের জন্য ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকেও দায়ী করা হতে পারে। কারণ, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালনায় তারা বড় ভূমিকা পালন করেছেন।
গত বুধবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নির্বাচনী ব্যর্থতার সঙ্গে ইরান যুদ্ধের সম্পর্ক তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, আমাদের হারের কারণ হলো যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে এ কথা বলেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভোটাররা রিপাবলিকানদের কাছে ফিরে আসার জন্য চারটি কারণের কথা বলেছেন—যুদ্ধ শেষ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিতে মনোযোগ দেওয়া, আমেরিকাকে প্রথমে রাখা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পরিবর্তন করা।
মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যের ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে ভ্যান্সের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচনায় যুক্ত একজন ব্যক্তি হেগসেথের জায়গায় ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের নাম প্রস্তাব করেছেন। তবে বুধবার এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে হেগসেথকে সরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রেসিডেন্ট তা অস্বীকার করে বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘খুব ভালো কাজ করছেন’। হেগসেথ টেনেসির শূন্য সেনেট আসনে নির্বাচন করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আসলে মনে করি সে যদি এটা করে তবে সে খুব জনপ্রিয় হবে।’ তবে এ বিষয়ে তিনি কিছুই শোনেননি বলে জানান।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রতি প্রেসিডেন্টের ‘পূর্ণ আস্থা’ রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাসে কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানে সংঘাত শুরু করার অভিযোগে হেগসেথকে ইমপিচ বা অভিশংসন করার প্রস্তাব তুলেছিলেন।
কিউএনবি/অনিমা/০৬ নভেম্বর ২০২৬,/সকাল ৫:২৭