আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বিশ্ব পুঁজিবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারে দরপতন অব্যাহত থাকলেও তেলের দাম ও সরকারি বন্ডের সুদের হার আগের পতন কাটিয়ে স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে।
এআই খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ার আশঙ্কা এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক কমেছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। তবে ডাও জোন্স সূচক বেড়েছে ২৬৫ পয়েন্ট। আগের দিন তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে পৌঁছেছিল এসঅ্যান্ডপি ৫০০।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর এআই খাতের ওপর সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন এলাকায় নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে স্থগিতাদেশ বা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে এআই প্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিক্রির চাপ বেড়েছে।
এশিয়ার বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৩৮৩ দশমিক ৮০ পয়েন্টে নেমেছে। দেশটির স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেমোরি চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ৯ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। দেশটিতে সফটব্যাংকের শেয়ার ৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ার ৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তাইওয়ানের তাইএক্স সূচকও ৩ দশমিক ২ শতাংশ হারিয়েছে।
অন্যদিকে এআই খাতের ওপর নির্ভরতা তুলনামূলক কম এমন কয়েকটি এশীয় বাজারে উত্থান দেখা গেছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভারতের সেনসেক্স সূচক ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর জ্বালানি তেলের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ইরান যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে যায়। তবে বৃহস্পতিবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে তেলের দাম। একই সময়ে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও আগের পতনের পর স্থিতিশীল হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এআই অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে নজরদারি বাড়তে পারে। এতে এআই খাতে বিনিয়োগের গতি কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা থাকায় নতুন কংগ্রেস চাইলেই সব ক্ষেত্রে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে ইউরোপের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে জার্মানির ডিএএক্স সূচক ০ দশমিক ৬ শতাংশ, ফ্রান্সের ক্যাক ৪০ সূচক ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক ১ শতাংশ বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, নির্বাচনের ফলাফলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেসে শুল্কনীতি নিয়ে নতুন আলোচনা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এআই খাতের বিপুল ব্যয়, ভবিষ্যৎ মুনাফা এবং বিনিয়োগের অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগের গতি কমলে চিপ নির্মাতা ও ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিপরীতে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে এআই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা আপাতত অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলছে।
সূত্র: কাস্টনেট।
কিউএনবি/অনিমা/০৬ নভেম্বর ২০২৬,/সকাল ৫:২৫