আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ডেনমার্কের অধীনস্থ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ব্যাপক হারে সম্প্রসারণের পথ সুগম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলতি বছরের শুরুর দিকে স্বাক্ষরিত একটি নিরাপত্তা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার গ্রিনল্যান্ডিক পার্লামেন্টে ডেনমার্ক সমর্থিত এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি পাস হয়।
গত বছর ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত বা সংযুক্ত করার হুমকি দেওয়ার পর থেকেই আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দুর্লভ খনিজ সম্পদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ধরনের তীব্র বাকপটুতা ও অবস্থান কোপেনহেগেনে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। সেই সঙ্গে ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যরাও তৎকালীন সময়ে ডেনমার্কের পাশে এসে দাঁড়ায়।
দীর্ঘ টানাপোড়েন ও কূটনৈতিক দ্বন্দের পর গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি বহুপক্ষীয় সমঝোতা হয়। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর তৎকালীন সময়ে ট্রাম্প বড়াই করে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, এই সমঝোতা ওয়াশিংটনকে সুদূর আর্কটিক ভূখণ্ডের নিরাপত্তার ওপর ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ এনে দেবে।
গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থনে পাস হওয়া এই চুক্তিতে দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ও পরিধি ব্যাপক সম্প্রসারণের বিধান রাখা হয়েছে। এর অধীনে গ্রিনল্যান্ডে দুটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের পথ উন্মুক্ত হলো। অবশ্য এই সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি চুক্তিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের বিষয়টিকে পুনরায় নিশ্চিত ও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
অনুমোদনের পর গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুতে এগেডে এই চুক্তিকে দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি আমাদের জন্য বড় একটি বড় মাইলফলক।
তবে এই চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। বিরোধীদের প্রধান দল নালেরাক-এর প্রধান পেলে ব্রোবার্গ রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, এই নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড প্রকৃতপক্ষে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা বা প্রাপ্তি হাসিল করতে পারেনি।
এদিকে চুক্তি পাসের ঠিক পরদিনই মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও এই সামরিক চুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ইউরোপ প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আজ পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার’ দিয়েছে।
জানা গেছে, এই নির্বাহী চুক্তিটি আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের পার্লামেন্টে উত্থাপিত হবে। সেখানে আগামী ১১ নভেম্বর প্রথম পাঠ এবং পরবর্তীতে সার্বিক পর্যালোচনার পর ১৯ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয় দেশের পার্লামেন্টে সম্পূর্ণ অনুমোদন পেলেই এটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, এই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চুক্তিটি কার্যকর হতে মার্কিন সিনেটের কোনো ধরনের অনুমোদন বা সম্মতির প্রয়োজন পড়বে না।
সূত্র: আরটি
কিউএনবি/অনিমা/০৪ নভেম্বর ২০২৬,/রাত ৯:২৬