মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে যেসব ক্ষমতা কমে যাবে ট্রাম্পের ১২ কেজির এলপিজি আগেই বিক্রি হচ্ছিল ২৫০০ টাকায়: আসিফ মাহমুদ ব্যবসায়ীদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সরকার জনগণকে অসন্তুষ্ট করছে: বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি করণ জোহরের শো বন্ধ হওয়ায় কেন খুশি হন কারিনা? ‘স্টার লাইট অনন্য সম্মান ২০২৬’ পেলেন মিঠুন চক্রবর্তী শুভশ্রীর জন্মদিনে রাজের রোমান্টিক পোস্ট নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদ ইসলামের আগামী বছর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে মিলবে বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার সুযোগ: মাহদী আমিন

শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীদের রুখে দেওয়ার ডাক

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ Time View

ডেস্ক নিউজ : ঢাকা ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তৈরি পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ, সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভাসানী জনশক্তি পার্টি। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ মিনহাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করে শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীদের রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সুযোগ-সুবিধা ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নের দাবির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, শিল্পের সক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা, রপ্তানি আয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কোনো ধরনের অযৌক্তিক বা শিল্পের সামর্থ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন দাবি চাপিয়ে দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে ঝুঁকির মুখে ফেলা উচিত নয়।

বিশেষ করে ৩০ হাজার টাকা বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট অঙ্কের মজুরি দাবি করার ক্ষেত্রে শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তবতা বিবেচনা করতে হবে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি মালিকপক্ষের ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও শিল্পের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা প্রয়োজন।’

তবে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আড়ালে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতিকে উসকে দিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কোনো মহল অর্থায়ন বা অন্য কোনো উপায়ে শ্রমিকদের ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে কি না, সে বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি- উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

ব্যারিস্টার শেখ মিনহাজুল ইসলাম আরও বলেন, আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সরকারি-বেসরকারি যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, রাস্তা অবরোধ এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের সম্পদ। এসব সম্পদ ধ্বংসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের সাধারণ মানুষ ও জাতীয় অর্থনীতি। শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার সঙ্গে কোনোভাবেই এক করে দেখা যাবে না। এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ খাতের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা, দেশের রপ্তানি আয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি জড়িত। এই শিল্পে পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন ব্যাহত করা, কারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কিংবা রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড।

ব্যারিস্টার শেখ মিনহাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পোশাকবাজারে বাংলাদেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তার সুফল ভোগ করতে পারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশ ও স্বার্থান্বেষী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক গোষ্ঠী। তাই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো মহলের বাণিজ্যিক স্বার্থে বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তিনি সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন- শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে জড়িত প্রকৃত ইন্ধনদাতা, অর্থায়নকারী ও নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করতে হবে, শিল্পের পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং কোনো রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক স্বার্থে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদকে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না। জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ, জননিরাপত্তা এবং দেশের রপ্তানি শিল্প রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৩ নভেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:২২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit