রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে কার্লসন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের নাম উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই এলাকায় ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে ইরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে বলে মনে করছে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা।
কার্লসনের দাবি, স্থাপনাটির ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ওপর প্রায় ৩০০ ফুট পুরু কঠিন গ্রানাইটের স্তর থাকায় প্রচলিত মার্কিন অস্ত্র দিয়ে সেখানে আঘাত করা কঠিন। এ কারণে পারমাণবিক হামলাই একমাত্র সামরিক বিকল্প হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু এ বিষয়ে প্রতিদিন ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
কার্লসন আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতেই ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও সেন্টকমপ্রধান ব্র্যাড কুপারসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছেও তিনি এ বিষয়ে তদবির করছেন বলে দাবি করেন কার্লসন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা প্রায় ১০ কোটি মানুষের পানির সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলবে। এমন হামলা বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
কার্লসনের দাবি, আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ট্রাম্প। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ তাকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
এর আগে শনিবার ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের এক বা দুটি পারমাণবিক স্থাপনা এখনও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের বিষয়ে সামরিক পরিকল্পনা থাকার কথাও জানান তিনি। তবে পারমাণবিক হামলার অনুমোদনের কথা বলেননি।
গত ১৬ অক্টোবর নিউজম্যাক্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন ট্রাম্প।
এদিকে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহু মঙ্গলবারের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হামলা শুরুর পক্ষে থাকলেও ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ দিতে চান।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে তারা মন্তব্য করে না। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে ট্রাম্প সব বিকল্প খোলা রেখেছেন। ইরান অবশ্য পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে পারমাণবিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, মিডল ইস্ট অনলাইন