আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে একসঙ্গে পাঁচটি সরকারি চাকরি করার অভিযোগে ৫৫ বছরের এক ব্রিটিশ নাগরিকের বিচার চলছে। ওই ব্যক্তির নাম কাশিম চৌধুরী। তিনি অন্য চাকরির বিষয় গোপন রাখতে অসুস্থতার ছুটি নেওয়া, অনলাইন বৈঠকে ক্যামেরা বন্ধ রাখা এবং নিজেকে অসুস্থ দেখাতে মুখে সাদা মেকআপ লাগানোর মতো কাজ করতেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, কাশিম পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলের বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে কাজ করে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড আয় করতেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর, পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দপ্তর (ডেফরা), যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে তার চাকরি ছিল বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে পাঁচটি চাকরির জন্য তার সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা নির্ধারিত ছিল ১৮৩ ঘণ্টা। অথচ এক সপ্তাহে মোট সময় ১৬৮ ঘণ্টা। অর্থাৎ বিশ্রাম বা ঘুমের সময় বাদ দিলেও তার পক্ষে নির্ধারিত সব কর্মঘণ্টা পূরণ করা সম্ভব ছিল না।
অসুস্থতার ছুটি নিয়ে অন্য চাকরি গোপন
লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে কাশিমের বিরুদ্ধে প্রতারণার নয়টি অভিযোগে বিচার চলছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আদালতে অভিযোগ করা হয়, এক চাকরির ব্যবস্থাপকদের কাছ থেকে অন্য চাকরির তথ্য গোপন রাখতে প্রায়ই অসুস্থতার ছুটি নিতেন কাশিম। অনলাইন বৈঠকের সময় ল্যাপটপে কারিগরি সমস্যার কথা জানাতেন কিংবা ক্যামেরা বন্ধ রাখতেন।
তার তত্ত্বাবধায়কেরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, অন্য কোথাও চাকরি করার বিষয়ে তাদের কিছু জানাননি কাশিম। তাদের মূল্যায়নে, তার কাজের মান ছিল ‘অকার্যকর’ ও ‘দুর্বল’।
শুনানিতে কাশিমের বিরুদ্ধে ওঠা একটি অদ্ভুত অভিযোগও সামনে এসেছে। আদালতকে জানানো হয়, ইউকেএইচএসএর এক ব্যবস্থাপকের সঙ্গে অসুস্থতার ছুটি নিয়ে মাইক্রোসফট টিমসে বৈঠকের সময় নিজেকে অসুস্থ দেখাতে মুখে সাদা মেকআপ লাগিয়েছিলেন তিনি।
তবে মেকআপে তার গলা ঢাকা পড়েনি। বৈঠক চলাকালে মুখের মেকআপ উঠে যেতে শুরু করলে নিচে তার স্বাভাবিক ত্বক দেখা যায় বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া, ভুল করে নিজের ডেফরা প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে বৈঠকে যোগ দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগপক্ষ জানিয়েছে। কাশিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচার চলছে। আদালতে উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি।
কিউএনবি/আয়শা/১৬ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১০:০০