স্পোর্টস ডেস্ক : গত কয়েক দিন ধরে কিলিয়ান এমবাপ্পে খবরের শিরোনামে আছেন। ফ্রান্স-তুরস্কের ম্যাচে তিনি চোট পান। এরপর ফ্রান্স দল ছেড়ে চিকিৎসার জন্য মাদ্রিদে ফেরেন। এসব নিয়ে সবার নজর এখন তার ওপর।
রিওলোর এই অনুমানের পেছনে আছে রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের ঘনিষ্ঠ মহলের কথা। তারা এমবাপ্পের প্যারিস ও সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের সমালোচনা করেছেন। সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছে সাইকেল চালানোর একটি ছবি নিয়ে। অথচ ইনজুরির ভয়ে মরিনিও সম্প্রতি খেলোয়াড়দের সাইকেল চালাতে নিষেধ করেছিলেন।
রিওলো বলেছেন, ‘সাইকেলের ঘটনাটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। আমি ভাবতে শুরু করেছি, এমবাপ্পের কি এখনও ফুটবল খেলার ইচ্ছা আছে? সে আসলে কী চায়? মনে হয়, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে ভাবে, আজ আমি বড় একটা ভুল করব।’তিনি আরও বলেন, ‘সে এভাবে বারবার ভুল করতে পারে না। ফ্রান্সের ম্যাচগুলোতে সতীর্থদের পাশে না থাকায় আমি অবাক হয়েছি।’
এরপর তিনি যোগ করেন, ‘আমি বলছি না যে প্রতিটি অ্যাওয়ে ম্যাচে তাকে যেতেই হবে। কিন্তু সোমবার স্তাদ দ্য ফ্রান্সে সব বড় তারকা হাজির ছিলেন। ফরাসি ফুটবল পরিবার একসঙ্গে হয়েছিল। আমি বলছি না যে এটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু “তোমার মতামতের পরোয়া করি না” এমন বার্তা না দিয়ে সে অন্য কিছু করতে পারত।’
রিওলো বলেন, ‘কিন্তু সবকিছুর একটা সীমা আছে। তাকে ইতিবাচক বার্তা দিতে হবে। স্তাদ দ্য ফ্রান্সে এসে বলতে হবে, না, আমি আসতে চাই না, এমনটা ঠিক নয়। মাদ্রিদে থেকে বলা, না, আমি চাই না, এটাও ঠিক নয়। নাইটক্লাবের বাইরে দেখা না দিয়ে বলা, না, আমি চাই না, এটাও ঠিক নয়। মরিনিও যা চান না, সেই সাইকেল চালিয়ে বলা, না, আমি চাই না, এটাও ঠিক নয়।’এমবাপ্পেকে সরাসরি উদ্দেশ করে রিওলো বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে! তুমি সীমা ছাড়িয়ে গেছ, যথেষ্ট হয়েছে!’
রিওলো আরও বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে সে মানসিকভাবে ভালো নেই। বিশ্বকাপে তাকে ছেড়ে দিলে সব ঠিক থাকে। সে বন্ধুদের সঙ্গে থাকে, ভালো সময় কাটায়, আর দারুণ ভাবমূর্তি তৈরি করে। তারপর ব্যালন ডি’অর নিয়ে তার আচ্ছন্নতা তাকে এমন মন্তব্য করতে বাধ্য করে। নিজের এক বন্ধুকে (উসমান ডেম্বেলে) আঘাত দেওয়া দুঃখজনক, কিন্তু সে সেটাই করে।’এই সাংবাদিক বলেন, ‘একটা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আসলে কোনো ব্যাখ্যা নেই। যথেষ্ট হয়েছে! তুমি শুধু সমালোচকদের হাতে আরও গোলাবারুদ তুলে দিচ্ছ।’
রিওলো বলেন, তিনি বুঝতে পারছেন না, ঘনিষ্ঠদের কেউ কেন এমবাপ্পেকে এ কথা বলছে না। এ থেকেই তার মনে হচ্ছে, ‘সে ভালো নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তার ব্যক্তিগত জীবন বদলে গেছে। ভালোবাসার অধিকার তার আছে। কিন্তু সে কি এর চেয়ে বেশি কিছু চায়? ফুটবল তাকে ক্লান্ত করে দিচ্ছে। চারপাশে যা ঘটছে, তাও ক্লান্ত করছে। প্রত্যাশার চাপও তার ওপর পড়ছে। বিশেষ করে এখন, যখন সে এত নাটকীয়ভাবে স্পনসর বদলেছে।’
শেষে রিওলো বলেন, ‘সে এসব কীভাবে সামলাচ্ছে, তা আমি বুঝতে পারছি না। আর যারা তার চারপাশের সবকিছু নিয়ে সত্যিই ভাবছে, তারা কারা, সেটাও বুঝতে পারছি না। সে কী করার চেষ্টা করছে, এই মনোভাব কেন, সবার কাছ থেকে নিজেকে কেন আলাদা করে রাখছে, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।’রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে এমবাপ্পের চুক্তি ২০২৯ সালের গ্রীষ্ম আছে।
কিউএনবি/আয়শা/০৯ অক্টোবর ২০২৬,/দুপুর ১:২২