আশুলিয়ায় শ্রমিক দল নেতার বাসায় হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৬
Reporter Name
Update Time :
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
২৮
Time View
আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার আশুলিয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে শ্রমিক দল নেতার বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইয়ারপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি সাঈদ হাসান মিঠু গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। আহতদের মধ্যে চায়ের দোকানদার ও তার ছেলে সহ ৩ জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে আশুলিয়ার কাঠালতলা, চিত্রশাইলের মানিকগঞ্জ পাড়া ও কামরুলেট মোড় এলাকায় পৃথকভাবে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ববিরোধের জেরে আশুলিয়া থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের বাসায় একদল লোক হামলা চালায়। এ সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাসায় গিয়ে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন রবিউল ইসলাম।
হামলার একপর্যায়ে বাসার সিঁড়ির নিচে হামিম নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রাখা হয়। পরে ইয়ারপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি সাঈদ হাসান মিঠুকেও মাথা ও বাম হাতে কুপিয়ে এবং ডান হাতে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নারীসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও সবার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার একপর্যায়ে পুলিশের সাইরেন শুনে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘হাবিব ও হাসান বাহিনীর লোকজন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার বাসায় এসে গুলি চালায় ও ভাঙচুর করে। আমাকে না পেয়ে আমার কর্মী হামিমকে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। আমি মাদকের বিরুদ্ধে মিছিল করায় তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালিয়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. হাবিব। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘এই হামলার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। বরং তারা আমার দুই ছেলেকে মারধর করেছে। আমি দূরে অবস্থান করায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখতেও পারিনি। আমি যদি সেখানে গিয়ে থাকি, তারা যদি তা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমার বিরুদ্ধে যে শাস্তি দেওয়া হবে, আমি তা মাথা পেতে নেব।’
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় ও আহতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পুলিশি তদন্তের অপেক্ষা করছেন স্থানীয়রা।