পানছড়ির দুর্গম প্রফুল্লপাড়ায় সেনাবাহিনীর বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণ, সৌরচালিত পানির পাম্প স্থাপন।
Reporter Name
Update Time :
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
২০
Time View
জসীম উদ্দিন জয়নাল, পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার দুর্গম প্রফুল্লপাড়ায় শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এর আওতায় প্রফুল্লপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি ৪৫টি পরিবারের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণে সৌরচালিত পানির পাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে এসব কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। মাটিরাঙ্গা জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. মাসুদ খাঁন পিএসসির পক্ষে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল পিএসসি জি। এসময়,উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেম,প্রফুল্লপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজীব চাকমা,স্থানীয় কার্বারী উপস্থিত ছিলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং শিশুদের নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রফুল্লপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ নতুনভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সুন্দর ও মনোরম শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত প্রফুল্লপাড়ার ৪৫টি পরিবারের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে স্থাপন করা হয়েছে সৌরচালিত পানির পাম্প। একই সঙ্গে দুটি পাড়ায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা এবং পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজীব চাকমা বলেন, “জরাজীর্ণ ভবনে শিশুদের নিরাপদে পাঠদান নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকতাম। সেনাবাহিনীর সংস্কার কাজের পর শিক্ষার্থীরা এখন নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারছে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রীমতি ত্রিপুরা বলে, “আগে আমাদের স্কুলটি অনেক পুরোনো ও ভাঙাচোরা ছিল। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ত। এখন স্কুলটি অনেক সুন্দর হয়েছে। নতুন পরিবেশে ক্লাস করতে আমাদের খুব ভালো লাগছে। উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেম বলেন, “দুর্গম এলাকার দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট অনেকটাই দূর হয়েছে। ৪৫টি পরিবার এখন সহজেই সুপেয় পানি পাবে। সেনাবাহিনীর এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শান্তি জীবন ত্রিপুরা বলেন, “সুপেয় পানির জন্য আমাদের মা-বোনদের মাইলের পর মাইল দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হতো। সৌরচালিত পানির পাম্প স্থাপনের ফলে সেই কষ্টের অবসান হয়েছে। এখন ঘরের কাছেই গ্রামবাসী সুপেয় পানি পাবেন।”মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল পিএসসি জি,দুর্গম এলাকার স্থানীয় জনগোষ্ঠী নিরাপদ ও সহজলভ্য পানির সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা উন্নত ও উপযোগী পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। এতে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার এবং সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
মাটিরাঙ্গা জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাসুদ খান বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের পাশে সবসময় রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।