শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
এআই দিয়ে প্রয়াত অভিনেতার মুখে সংলাপ বসালেন পরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে পর্যটন সহযোগিতা বাড়াতে চায় ফিলিপাইন ভারতে ডিজিটাল প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেবে ব্যাংক ইথিওপিয়াকে ১২ যুদ্ধবিমান ও চার এস-৪০০ দিচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের স্থান পরিবর্তন চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে রোগীর মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা এলপিজি বিক্রির কমিশন দুই থেকে তিনগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব সারেনি বিমানের ত্রুটি, বিমান থেকে নামলেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হচ্ছে গঙ্গা চুক্তি, ভাগ্য বদলাবে কি নবায়ন চুক্তিতে? পর্যটনে এআই ও টেকসই গন্তব্যের বার্তা নিয়ে ঢাকায় বিটিটিএফ শুরু

দুই মার্কিন সেনাকে ‘ভুয়া’ সাক্ষাৎকার দিতে চাপ দিয়েছিলেন হেগসেথ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এ বছরের এপ্রিলে ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এয়ার ফোর্সের একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দুই সদস্যকে ‘ভুয়া’ সাক্ষাৎকার দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এ সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পেন্টাগনের অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকর্তারা। 

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমদিকে দুই সেনাই সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, কার্যত তাদের ওই সাক্ষাৎকার দিতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ উদ্ধার হওয়া দুই সেনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বৈঠক করেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ‘ব্রাভো’ সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হন। তবে অপর সেনা, ‘আলফা’, এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। ওয়াশিংটন এখনো তাদের কারও পরিচয় প্রকাশ করেনি।

সিএনএনের দাবি, এই ঘটনাটি দেখিয়েছে—ইরানের সঙ্গে অজনপ্রিয় যুদ্ধকে ঘিরে জনমত ও বয়ান নিজেদের অনুকূলে গড়ে তুলতে হেগসেথ কীভাবে ওই দুই সেনার বেঁচে থাকা ও উদ্ধার হওয়ার নাটকীয় ঘটনাকে কাজে লাগাতে চেয়েছেন। তবে পেন্টাগন এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল সিএনএনকে বলেছেন, প্রতিবেদনটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।

পারনেল বলেন, ‘সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যেক সেনার নিজস্ব ছিল—কারণ এটি তাদের গল্প।’তিনি আরও বলেন, ‘সিএনএনও উল্লেখ করেছে, একজন সেনা সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং অন্যজন নেননি। পাশাপাশি, অপারেশনাল নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্যের উৎস ও পদ্ধতি সুরক্ষিত রাখতে প্রতিরক্ষা বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে।’

‘৬০ মিনিটস’-এর সাংবাদিক নোরাহ ও’ডনেল ওই প্রতিবেদন তৈরির সময় হেগসেথ, মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারেরও সাক্ষাৎকার নেন।

কীভাবে ভূপাতিত হয়েছিল যুদ্ধবিমানটি?

গত ৩ এপ্রিল ইরানের আকাশে মার্কিন এয়ার ফোর্সের এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর এটিই ছিল ইরানের হাতে ভূপাতিত প্রথম মার্কিন যুদ্ধবিমান।

বিমানটিতে থাকা দুই সেনাই প্যারাসুটে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ওই যুদ্ধ শুরু করেছিল ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি দূর করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক দুর্বল করার ঘোষিত লক্ষ্য নিয়ে।

যুদ্ধবিমানের পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসার ইরানের দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। তাকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইরানি বাহিনীও তাকে খুঁজছিল।

ইসরাইল গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে মার্কিন উদ্ধার অভিযানকে সহায়তা করে। এমনকি নিখোঁজ মার্কিন সেনা যে এলাকায় অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল, সেখানে হামলাও পিছিয়ে দেয় ইসরাইল।

পাহাড়ে একা ছিলেন প্রায় দেড় দিন

বিমান থেকে নামার সময় ওই ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসার অচেতন হয়ে পড়েন এবং মাথায় আঘাত পান। ফলে প্রথমদিকে তিনি উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

পরে তিনি যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। এরপর ইরানি বাহিনীর চোখ এড়িয়ে পাহাড়ি এলাকায় চলাচল করতে থাকেন। ইসরাইলি প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ হেঁটে একটি পাহাড়ি ফাটলে লুকিয়ে ছিলেন এবং উদ্ধারের অপেক্ষা করছিলেন।

প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর মার্কিন বিশেষ বাহিনী আহত ওই কর্মকর্তার কাছে পৌঁছায়। তাকে উদ্ধারে ব্যাপক বিমান সহায়তা দেওয়া হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ইরানি সেনারা বিপুল সংখ্যায় ওই মার্কিন সেনাকে খুঁজছিল এবং মার্কিন বাহিনী পৌঁছানোর সময় তারা তার অবস্থানের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল।

উদ্ধার অভিযানেও বড় বিপদ

ওই সেনাকে এবং উদ্ধারকারী দলকে ইরান থেকে বের করে আনার জন্য ব্যবহারের কথা ছিল দুটি মার্কিন পরিবহন বিমানের। কিন্তু প্রত্যন্ত একটি বিমানঘাঁটিতে গিয়ে বিমান দুটি আটকে পড়ে।

ইরানের হাতে বিমান দুটি চলে যাওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করে দেয়। পরে বিকল্প বিমান এনে আহত কর্মকর্তাসহ উদ্ধারকারী দলকে ইরান থেকে বের করে আনা হয়।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সকাল ১১:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit