রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন

ই-পার্লামেন্ট কী, কীভাবে কাজ করে?

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ Time View

ডেস্ক নিউজ : পেপারবিহীন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি এবং কমিটির সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ ও এ বি এম মোশাররফ হোসেন সাক্ষাৎ করেন।

ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডেপুটি স্পিকারকে চেয়ারম্যান করে একটি কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন স্পিকার।

ই-পার্লামেন্ট কী 

ই-পার্লামেন্ট (e-Parliament) হলো এমন একটি আধুনিক সংসদীয় ব্যবস্থা, যেখানে সংসদের আইন প্রণয়ন, অধিবেশন পরিচালনা, নথি ব্যবস্থাপনা, ভোটাভুটি, কমিটির কার্যক্রম ও সংসদ সদস্যদের যোগাযোগের মতো কাজগুলো ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।

সহজভাবে বললে, কাগজ ও প্রচলিত ফাইলনির্ভর সংসদীয় ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তর করাই ই-পার্লামেন্টের মূল ধারণা। 

ই-পার্লামেন্ট কীভাবে কাজ করে?

একটি পূর্ণাঙ্গ ই-পার্লামেন্টে সাধারণত কয়েকটি বিষয় থাকে—

১. ডিজিটাল আইন প্রণয়ন

কোনো বিল সংসদে উত্থাপনের পর সেটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ ও সদস্যদের কাছে সরবরাহ করা যায়। সদস্যরা অনলাইনে বিলের খসড়া, সংশোধনী ও সংশ্লিষ্ট নথি দেখতে পারেন।

২. ইলেকট্রনিক ভোটিং

সংসদ সদস্যরা কোনো প্রস্তাব বা বিলের ওপর ভোট দিলে তা ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেমের মাধ্যমে নেওয়া ও ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

৩. ডিজিটাল অধিবেশন ব্যবস্থাপনা

সংসদের এজেন্ডা, কার্যসূচি, প্রশ্নোত্তর, বক্তৃতার তালিকা ও অন্যান্য তথ্য সদস্যদের ডিজিটাল ডিভাইসে সরবরাহ করা যায়।

৪. সংসদীয় কমিটির কাজ

কমিটির বৈঠকের নোটিশ, আলোচ্যসূচি, রিপোর্ট, সাক্ষ্য ও অন্যান্য নথি একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থায় রাখা যায়। এতে কাগজের ব্যবহার কমে এবং তথ্য খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

৫. ডিজিটাল নথি ও আর্কাইভ

পুরোনো বিল, আইন, সংসদীয় বিতর্ক, কমিটির প্রতিবেদন ও অন্যান্য নথি ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত খুঁজে বের করা সম্ভব।

৬. সংসদ সদস্যদের ডিজিটাল যোগাযোগ

সংসদ সদস্যরা সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ, নোটিশ গ্রহণ, প্রশ্ন জমা ও বিভিন্ন সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়— সরকার একটি নতুন শিক্ষা বিল সংসদে আনলো।  

প্রচলিত ব্যবস্থায় বিলের কপি ছাপিয়ে সদস্যদের দেওয়া হতে পারে। আর ই-পার্লামেন্টে—

বিল প্রস্তুত → ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপলোড → এমপিরা অনলাইনে পড়বেন → সংশোধনী প্রস্তাব দেবেন → কমিটিতে পর্যালোচনা → সংসদে আলোচনা → ইলেকট্রনিক ভোট → ফলাফল ও চূড়ান্ত আইন ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ 

পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালিত হতে পারে। 

এর সুবিধা কী?
  • সংসদীয় কাজে সময় কম লাগে
  • কাগজ ও মুদ্রণ খরচ কমে
  • নথি হারানোর ঝুঁকি কমে
  • তথ্য দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়
  • সংসদীয় কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো যায়
  • সংসদ সদস্যদের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছানো যায়
  • সংসদীয় নথির দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল সংরক্ষণ সম্ভব হয়
  • দূরবর্তী বা অনলাইন অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে

ই-পার্লামেন্ট মানে শুধু সংসদে কম্পিউটার বা ট্যাব ব্যবহার করা নয়। এটি মূলত সংসদের পুরো কার্যপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও সমন্বিত করার একটি ব্যবস্থা।  

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৯:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit