শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন

গোলাপগঞ্জে বেড়েছে হানি ট্র্যাপের চক্র : নেপথ্যে লাইভার খালেদ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭৮ Time View

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) সিলেট প্রতিনিধি : বিগত কয়েক দিন ধরে বেড়েছে সিলেটের গোলাপগঞ্জে হানি ট্যাপের চক্রের কলো থানা। গোলাপগঞ্জ পৌর শহর ও ইউনিয়নের গ্রাম গঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে এ সদস্যদের বিচরণ। সুন্দর দেহের আবরণ দেখিয়ে মোবাইলের নাম্বার সংগ্রহ করে নিজের ছবি দেখিয়ে তরুণ যুবক ও মধ্যে বয়সি পুরুষদের আকৃষ্ট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নিজের পছন্দ মত জায়গায় নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় গোপনে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল করা হয়। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে হতে হয় হামলা, ধর্ষণ মামলা সহ নানা হয়রাণীর শিকার।

এমন অভিযোগ উঠেছে এসব এর অন্তরালে রয়েছে কয়েকজন ভূয়া ফেসবুক লাভারের নাম। তার মধ্যে অন্যতম একজনের নাম উঠেছে খালেদ আহমদ নামের একজনের। তার গ্রামের  বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার বারোকোট গ্রামে তার ছাত্র ছায়ায় একটি মহিলা চক্রদ্বারা এক যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাক মেইল করে থাকে অভিযোগ উঠেছে। এ নারী চক্র তাদের শিকার টার্গেট করার পর তালাশ টিভির ফেসবুক পেইজ থেকে ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের কথা বলে ভয় ভিতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো বলে জানাযায়।

এদিকে সিলেট মেট্রােপলিটন পুলিশের কতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ এই চক্রের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়েছে। এদের মধ্যে দুই নারী ও দুই পুরুষ। উদ্ধার করা হয়েছে এক ভিকটিমকেও। শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬ইং) ভোর ৪টার দিকে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিকটিমের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাদের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের নিকট থেকে ১টি প্রাইভেট কার, ১টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ৫টি  মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন, সিলেটের কানাইঘাটের আজিজুল হক ওরফে বাবুল মিয়া ও ফায়ারুন নেছার যুবতী কন্যা তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), সিলেট নগরীর মিরাবাজার এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ও আনোয়ারা বেগমের যুবতী কন্যা জেসমিন আক্তার (২২), মোগলাবাজার উপজেলার গঙ্গানগর এলাকার তোফাজ্জল আলী ও মালেকা বেগমের পূত্র  মো. জায়েদ আহমদ (৩৫) ও গোয়াইনগাটের মোহাম্মদপুর এলাকার আলাল উদ্দিন ও নাসিমা বেগমের পূত্র আব্দুল জলিল (৩০)।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬ইং) এসএমপির কোতোয়ালী মেন্দিবাগ এলাকা থেকে ভিকটিম মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার বন্ধু মাহফুজ আলীকে (২৫) ওই চক্রের সদস্যরা তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে যতরপুর এলাকার নবপুষ্প-১১৩নং বাসার ৫ম তলার একটি কক্ষে নিয়ে জিম্মি করে। সেখানে তারা ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ইলেকট্রিক শক প্রদানের মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন চালায়।

এ সময় জোরপূর্বক উলঙ্গ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে। এসব কাজের শুরু থেকেই জেসমিন ও তানহাকে ব্যবহার করে তারা। পরবর্তীতে ভিকটিম মাহমুদুল হাসান রিফাত তার আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দেন ৯০ হাজার টাকা। তখন ভিকটিমের পরিবারে লোকজনের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।

এক পর্যায়ে তারা কোতোয়ালী থানায় অভিযোগ করেন এবং পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ও ভিকটিমদের উদ্ধার করে। তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা (নং-১৯-১১/৪/২৬) দায়ের করে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/দুপুর ২:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit