মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

এক মরদেহের একাধিক দাবিদার, মৃতদের অনেককে সনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভোটেকোশী নদীতে ভেসে আসা বন্যার্তদের মরদেহ শনাক্তকরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম জটিলতা। পোখরা বিজ্ঞান স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত ১০০৩ নম্বর মরদেহটির দাবিদার হিসেবে একযোগে উপস্থিত হয়েছেন দুই পরিবার। এতে কোনটা কার স্বজন, তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে ডিএনএ পরীক্ষার শরণাপন্ন হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

পোখরায় নিয়ে আসা মরদেহগুলোর মধ্যে অন্তত দুটি এমন ঘটনা রয়েছে, যেখানে একটি লাশের বিপরীতে একাধিক পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনের দাবি করছেন। নিহত ব্যক্তি গোপাল দাহাল না দামোদর বাসিয়াল, তা নির্ধারণে উভয় পরিবারের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মরদেহটি মর্গের হিমঘরে সংরক্ষণে রাখবে কর্তৃপক্ষ।

কাস্কি জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র পরিদর্শক দীপক রিজাল জানান, বিপর্যয়ের মুহূর্তে তাড়াহুড়ো বা বিভ্রান্তির কারণে এক স্বজন অন্য কারও মরদেহ ভুল করে নিয়ে যেতে পারেন। সে কারণেই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেই এর সুরাহা করা হচ্ছে। একই ধরনের জটিলতার কারণে পুলিশ এ পর্যন্ত পাঁচটি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে।

গোর্খা, তানাহু, ধাদিং ও পূর্ব নওয়ালপরাসী অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা ১০২টি লাশ পোখরায় আনা হয়েছিল। রবিবার পর্যন্ত তার মধ্যে মাত্র ১৬টি পরিবার সনাক্ত করে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া গেছে।

গোপাল দাহালের বোন মানজি থারু ও স্বজনেরা বার্দিয়া থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই হাসপাতালে এসেছেন। অন্যদিকে রূপন্দেহীর দামোদর বাসিয়ালের ভাই রাধে শ্যাম শর্মা বাসিয়ালও সেই একই মরদেহের চেহারার সাথে নিজের নিখোঁজ ভাইয়ের তিল, ঠোঁট ও মুখের গঠন হুবহু মিলে যাওয়ার দাবি করছেন। উভয় পক্ষই লাশটি তাদের বলে নিশ্চিত করলেও ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছেন।

এদিকে মর্গে অতিরিক্ত মৃতদেহের চাপে ঠাঁই নেই অবস্থা তৈরি হয়েছে। পোখরা একাডেমির ৭২টি ফ্রিজিং চেম্বার থাকলেও এই মুহূর্তে সেখানে ৭৭টি মরদেহ রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমাগারের ভেতর অস্থায়ী একটি কনটেইনার বসিয়ে সেখানে ২৫টি মরদেহ স্থানান্তর করতে হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জেলা কর্মকর্তা কুমার সিং গুরুং জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী চিতওয়ানের মতো এখানে পচন ধরার ভয় নেই, কারণ পোখরায় দীর্ঘ মেয়াদে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এখনই নামপরিচয়হীন মরদেহ দাফনের কোনো তাড়া নেই। অন্তত আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করে স্বজনেরা না আসলে ‘অশনাক্ত ও দাবিহীন মরদেহ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা ২০২৬’ অনুযায়ী এগুলো ট্যাগ নম্বর ও ভূ-অবস্থান নির্দিষ্ট করে সংরক্ষিত স্থানে দাফন করা হবে, যেন আগামী ১২ বছরের মধ্যে কোনো দাবিদার পাওয়া গেলে ডিএনএ মিলিয়ে মরদেহ উত্তোলন ও হস্তান্তর করা সম্ভব হয়।

সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

কিউএনবি/অনিমা/৩১ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ১১:২৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit