স্পোর্টস ডেস্ক : ম্যানুয়েল নয়্যারের নামের পাশে যুক্ত হলো বুন্দেসলিগার ইতিহাসে আরেকটি অনন্য রেকর্ড। জার্মানির শীর্ষ ফুটবল লিগে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ২১ মৌসুম মাঠে নেমে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বুন্দেসলিগার নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে স্টুটগার্টকে ৫-১ গোলে হারায় বায়ার্ন মিউনিখ। ৪০ বছর বয়সি নয়্যার ওই ম্যাচে মাঠে নেমেই গড়ে ফেলেন টানা ২১ মৌসুম খেলার নজির। একই সঙ্গে এটি ছিল বায়ার্নের জার্সিতে তার ৬০০তম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ।
মাইলফলক স্পর্শ করেও থামার কোনো ইঙ্গিত দেননি নয়্যার। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি দারুণ অনুভব করছি। প্রতিদিন দলের সঙ্গে অনুশীলন করা এবং মাঠে নেমে খেলাটা এখনো উপভোগ করি। নতুন মৌসুম এভাবে শুরু করতে পারাটা স্বপ্নের মতো। আমরা ঠিক এমন ফলই চেয়েছিলাম।’
টানা ২১ মৌসুমের বিরল কীর্তি
২০০৫ সালের আগস্টে শালকে ০৪-এর হয়ে বুন্দেসলিগায় অভিষেক হয় নয়্যারের। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। ২০১১ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি জার্মান জায়ান্টদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন।
বুন্দেসলিগার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মৌসুম খেলার রেকর্ড সাবেক ডিফেন্ডার ক্লাউস ফিখটেলের। তিনি ২২ মৌসুম খেললেও একবার দ্বিতীয় বিভাগে খেলতে নেমেছিলেন। ফলে কোনো বিরতি ছাড়া টানা ২১ মৌসুম বুন্দেসলিগায় খেলার একক রেকর্ড এখন শুধুই নয়ারের দখলে।
সংখ্যায় নয়্যারের সাফল্য
ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১৩টি বুন্দেসলিগা শিরোপা জিতেছেন নয়্যার। এই অর্জনে তিনি বায়ার্ন কিংবদন্তি টমাস মুলারের সঙ্গে যৌথভাবে লিগ ইতিহাসের সর্বাধিক শিরোপাজয়ী ফুটবলারের মর্যাদা ভাগ করে নিয়েছেন।
বুন্দেসলিগায় সর্বাধিক ২৪৬টি ক্লিন শিটের রেকর্ডও তার দখলে। এছাড়া ২০১৫-১৬ মৌসুমে একক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২১টি ক্লিন শিট রেখে গড়েছিলেন আরেকটি রেকর্ড।
শালকে, বায়ার্ন মিউনিখ এবং জার্মানি জাতীয় দলের হয়ে নয়ার জিতেছেন মোট ৩৩টি বড় ট্রফি। ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক জাতীয় দলের জার্সিতে খেলেছেন ১২৮টি ম্যাচ। পাশাপাশি বায়ার্নের হয়ে দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাও জিতেছেন তিনি।
স্টুটগার্টের বিপক্ষে বড় জয়ের পর নয়্যার বলেন, ‘স্টুটগার্ট খুবই ভালো দল। তাদের দলে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে এবং আক্রমণভাগও শক্তিশালী। তবে মৌসুমের শুরুটা নিখুঁত করতে আমরা সবাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। আমার মনে হয়, মাঠে আমরা সেটারই প্রমাণ দিতে পেরেছি।’
নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই দলকে বড় জয় উপহার দেওয়ার পাশাপাশি ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তুললেন জার্মান ফুটবলের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক।
কিউএনবি/আয়শা/২৯ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৪:০০