আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের ঠিক এক দিন আগে রাজধানী দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়ল বোমা হামলার আতঙ্ক। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিল্লি হাইকোর্টসহ রাজধানীর ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কোথাও ইমেইল পাঠিয়ে, কোথাও আবার ফোন করে এই হুমকি দেওয়া হয়। খবর পাওয়ার পরই তৎপর হয়ে ওঠে দিল্লি পুলিশ, দমকল বাহিনী ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক কোনও বস্তু পাওয়া যায়নি। পরে হুমকিগুলো ভুয়া বলে মনে করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সকালে দিল্লি হাইকোর্টে ইমেইলের মাধ্যমে বোমা হামলার হুমকি পৌঁছায়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, হুমকির খবর পাওয়ার পরই আদালতের রেজিস্ট্রি জেনারেল দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে আদালত চত্বরে তল্লাশি শুরু হয়। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এবং প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে পুরো এলাকা পরীক্ষা করে দেখা হয়। দিল্লি হাইকোর্টের যুগ্ম সচিব আইনজীবী কুণাল সংবাদ সংস্থাকে জানান, হুমকিটি ভুয়া বলে মনে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবু কোনও ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এবং প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে আদালত চত্বরের প্রতিটি অংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে কোনও হুমকি নেই বলেও তিনি জানান।
শুধু হাইকোর্ট নয়, দিল্লির আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একই ধরনের বোমা হামলার হুমকি পৌঁছেছে। দিল্লি দমকল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামনগর হাউস, ঝাণ্ডেওয়ালান ফ্ল্যাটেড ফ্যাক্টরি কমপ্লেক্স, সাকেতের জেলা প্রশাসকের দপ্তর, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের মহকুমা শাসকের দপ্তরে হুমকি পাওয়া যায়।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি জায়গায় দমকলের গাড়ি পাঠানো হয়। পুলিশ, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এবং প্রশিক্ষিত কুকুরের দল বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়। বিমানবন্দরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেও নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। তবে তল্লাশি চালিয়ে কোথাও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
হাইকোর্টে পাঠানো ইমেইলে দুপুর ২টা ১১ মিনিটে বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। হুমকির বিষয়টি সামনে আসার পর আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়। একই সময়ে রাজধানীর অন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর এবং বিমানবন্দরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরেই দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে।
আগামীকাল ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকবেন। ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিতে আগে থেকেই বাড়তি নজরদারি চলছে।তার মধ্যেই একই দিনে একাধিক জায়গায় বোমা হামলার হুমকি আসায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে তল্লাশির পর কোনও জায়গা থেকেই সন্দেহজনক বস্তু না মেলায় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হুমকিগুলির উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। একই ব্যক্তি বা একই গোষ্ঠী এই হুমকিগুলির সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইমেইল এবং ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও দিল্লির মেয়রের দপ্তরে বোমা হামলার হুমকি এসেছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সেই হুমকিকেও গুরুত্ব দিয়ে তল্লাশি চালিয়েছিল।
পরে সেখানেও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরপর বোমা হামলার হুমকি আসায় দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত সবকটি হুমকিই ভুয়া বলে মনে হচ্ছে, তবু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/১৪ অগাস্ট ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:০৮