আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়ার ওরস্ক শহরের অন্যতম প্রধান তেল শোধনাগারটি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত দুদিন আগের এই হামলায় প্ল্যান্টটির এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিদেশি যন্ত্রাংশ এবং পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সংস্কার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে এটি পুনরায় চালু করতে অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্থানীয় আঞ্চলিক গভর্নর। এর সরাসরি প্রভাবে ওরেনবার্গ অঞ্চলজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানিসংকট, যার ফলে যানবাহনচালকদের সীমাহীন ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ওরেনবার্গ অঞ্চলের গভর্নর ইয়েভগেনি সোলন্তসেভ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ইউক্রেনীয় হামলায় ক্ষিপ্রগতিতে ধেয়ে আসা স্প্লিন্টারের আঘাতে শোধনাগারটির এমন কিছু মূল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা বর্তমানে মেরামত করা সম্ভব নয়। ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো আমদানিকৃত এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে এগুলোর মেরামতকাজ সম্পন্ন হতে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। প্ল্যান্টটি বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।
গভর্নর আরও সতর্ক করে বলেন, আমরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং এ পরিস্থিতিতে আমাদের অঞ্চলের বাইরের উৎস থেকে নিয়ে আসা জ্বালানি সরবরাহের ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করতে হবে।
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী গত মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছিল যে, মস্কো থেকে প্রায় ১,৪৭০ কিলোমিটার (৯১৫ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে কাজাখস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ওরস্ক শোধনাগারটিতে তারা সাফল্যজনক আক্রমণ চালিয়েছে এবং এতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। বার্ষিক ৬০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিশালাকার কারখানাটিতে মোটর পেট্রল, ডিজেল, অ্যাভিয়েশন ফুয়েল (উড়োজাহাজের জ্বালানি), ফুয়েল অয়েল, বিটুমিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদিত হতো। ২০২২ সালে রাশিয়া কর্তৃক শুরু করা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আর্থিক ও কৌশলগত মূল্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে চলতি বছর ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে, যা রাশিয়াজুড়ে ব্যাপক জ্বালানিসংকট তৈরি করছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গভর্নর সোলন্তসেভ জানান, বর্তমানে অঞ্চলের ২৮৭টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৮০ শতাংশ চালু রয়েছে এবং অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ও অন্যান্য জরুরি সেবায় নিয়োজিত বিশেষ যানবাহনকে জ্বালানি প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাম্পগুলোতে চালকদের অতিরিক্ত ভিড় ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি সব জায়গায় সহজ নয় স্বীকার করেও এটি এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে দাবি করে গভর্নর সোলন্তসেভ অঞ্চলের প্রতিটি চালককে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স
কিউএনবি/অনিমা/১৩ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৫:২৭