আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথটি নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে একটি চুক্তি ঘোষণা করা হতে পারে।
বুধবার (৫ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। কোনো পক্ষ এ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি না করলে শিগগিরই একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হতে পারে। তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, তার মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভূমিকার ইঙ্গিত রয়েছে।
তবে চুক্তি বাস্তবায়নের পথে এখনও বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত হলেও এটি কার্যকর করতে এক পক্ষ বা উভয় পক্ষকেই কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়টি চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এর আগে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কর্তৃত্ব আরও জোরদার হয়, এমন কোনো শর্ত ট্রাম্প প্রশাসন প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওয়াশিংটনের মতে, এ ধরনের শর্ত আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্যও ইতিবাচক নয়।
অন্যদিকে, তেহরান বলছে, হরমুজের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকবে। তারা বলছে, যুদ্ধের আগের মতো এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে পরিচালিত হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, ইরান ও ওমানের আলোচকরা প্রণালিটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে খসড়া চুক্তিটি চূড়ান্ত করেছেন। এখন এটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেইয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিটি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের একটি অস্থায়ী সমাধানের পথ খুলে দেবে। তাদের দাবি, এটি গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ধারাবাহিক কার্যক্রম। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল, যুদ্ধ বন্ধ এবং প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা। তবে সেটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান চুক্তি কার্যকর হলে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের স্থগিত আলোচনা আবারও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এদিকে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা হতে পারে। হয়তো আগামীকাল বা পরশু। এ বিষয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই চুক্তি প্রক্রিয়ায় প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে ওমান। ভৌগোলিকভাবে জলপথটির পাশের অবস্থান এবং ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সুসম্পর্কের কারণে সংকট নিরসনে দেশটি শুরু থেকেই সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে।
সূত্র: এপি
কিউএনবি/অনিমা/০৬ অগাস্ট ২০২৬,/সকাল ৯:২৯