আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের জনপদ লক্ষ্য করে চরম প্রতিশোধমূলক হামলার উসকানি দিচ্ছেন ইসরায়েলের নেতারা। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ টেল, ইরাক বুরিন ও বেইত ফুরিক গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস করতে প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই জনপদগুলোকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চালানো ধ্বংসযজ্ঞের পর নাবলুস ও তুলকারমের শরণার্থী শিবিরগুলোর মতো বানিয়ে দেওয়া উচিত।
গত শুক্রবার দেওয়া এক বক্তব্যে স্মোট্রিচ বলেন, সেখানকার ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আওতা থেকে এলাকাটিকে পুরোপুরি নিজেদের আওতায় নিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানান।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও উগ্রপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের সহিংস বক্তব্য ও তাণ্ডব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ইহুদি হত্যার জন্য শত্রুপক্ষকে ভূমি ও ঘরবাড়ি হারাতে হবে।’ তিনি গাজা উপত্যকার মতো পশ্চিম তীরেও গোটা ফিলিস্তিনি শহর নিশ্চিহ্ন করার নীতি গ্রহণের তাগিদ দেন।
একই বার্তা দিয়েছেন স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টির সদস্য জভি সুকোট। চ্যানেল ফোরটিন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টেল গ্রামটিকে ‘ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে হবে’। একই দিনে তিনি তার ফেসবুক পেজে ‘প্রতিশোধ’ ক্যাপশনসহ একটি কালো স্ক্রিনের ছবি পোস্ট করেন।
কেন এই পরিস্থিতি
সম্প্রতি সেনাপ্রহরায় সশস্ত্র ইসরায়েলি দখলদাররা টেল গ্রামে হামলা চালালে এই উত্তেজনার শুরু হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সাইফি নামের একটি পরিবারের এক সদস্য এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনার পর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিজ ভূখণ্ডে অন্তত ৮৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে অন্তত ২১ জন সরাসরি ইসরায়েলের দখলদারদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
পশ্চিম তীরে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ ইসরায়েলি দখলদার রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে এই বসতিগুলো অবৈধ হলেও, উগ্রপন্থী ওই বসতি স্থাপনকারীরা নিয়মিত ফিলিস্তিনিদের জমি দখল, জলপাই বাগান ধ্বংস, বাড়িঘর-মসজিদে অগ্নিসংযোগ অগ্নিসংযোগ ও সরাসরি গুলি চালানোর মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
কিউএনবি/অনিমা/২৭ জুলাই ২০২৬,/দুপুর ১২:৫৩