সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

দুই কারণে আটকে আছে নতুন পে স্কেল

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : অর্থনৈতিক চাপ, রাজস্ব ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সতর্ক অবস্থানের কারণে বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারের বিবেচনায় রয়েছে একবারে পুরো বেতন-ভাতা না বাড়িয়ে দুই ধাপে পে স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা। প্রথম ধাপে মূল বেতন (বেসিক) বৃদ্ধি এবং পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বর্তমান বিধান অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পুনর্বিবেচনার কথা থাকলেও গত এক দশকে নতুন কোনো পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এ কারণে নতুন সরকারের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন অর্থনীতি ও জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা। যদিও প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে এই বিপুলসংখ্যক কর্মচারী নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমান রাজস্ব আহরণের পরিস্থিতিতে এই অর্থের সংস্থান কঠিন হওয়ায় ঘাটতি বাজেটের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

এদিকে আইএমএফের আশঙ্কা, একসঙ্গে বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ ফেলবে। পাশাপাশি প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব আদায় না বাড়ায় দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আইনি, আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকগুলো নিয়ে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি ইতোমধ্যে কমিশনের সুপারিশ এবং অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে একাধিক বৈঠক করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আরও দুই থেকে তিনটি কারিগরি বৈঠকের পর কমিটি তাদের চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠাবে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্টের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহে নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। যদিও গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবুও বর্ধিত বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতনের পাশাপাশি বকেয়া অর্থও একসঙ্গে পাবেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৩ জুলাই ২০২৬,/রাত ১০:১৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit