রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন

ট্রাম্প বলছেন ইরান ধ্বংস, গোয়েন্দারা বলছে উল্টো গল্প

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিমা সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে নেওয়া সুপরিকল্পিত প্রস্তুতির কারণে ইরান তাদের অস্ত্রভান্ডার ও নেতৃত্বের ক্ষতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে এখনো পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে দেশটির।

ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় ইরানের অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু ঘটেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আগাম পরিকল্পনার কারণে ইরান তাদের মিসাইল ও ড্রোন সক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি। একই সঙ্গে সামরিক প্রতিক্রিয়ার কার্যকারিতাও ধরে রাখতে পেরেছে।

এই মূল্যায়ন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের চেয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান সামরিকভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর বিকল্প নেতৃত্ব প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা থাকায় কমান্ড কাঠামোতে বড় ধরনের ভাঙন দেখা যায়নি। ইউরোপীয় ও উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের কাছে এখনো বিপুল সংখ্যক দূরপাল্লার মিসাইল রয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার ড্রোনও সক্রিয় রয়েছে তাদের অস্ত্রাগারে।

ইরানের মিসাইল মজুতের সঠিক তথ্য গোপন থাকলেও কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ হামলা চালানো প্রয়োজন ছিল। তবে অন্যরা বলছেন, এই হিসাব অতিরিক্ত আশাবাদী হতে পারে।

ইরান তাদের মিসাইল লাঞ্চার ও ড্রোন অবকাঠামো দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং নিয়মিত স্থান পরিবর্তন করছে। ফলে দ্রুত এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি কংগ্রেসে দেওয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরানের কাছে এখনো হাজার হাজার মিসাইল ও ড্রোন রয়েছে, যা মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর জন্য হুমকি।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। যদিও আলী খামেনি, আলী লারিজানির মতো শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

গত বছরের সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে ইরান ‘মোজাইক প্রতিরক্ষা কৌশল’ গ্রহণ করে, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। এতে মাঠ পর্যায়ের কমান্ডারদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতিও বাড়ছে। উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, সংঘাত চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছিল। এখন পর্যন্ত তারা বিপুল পরিমাণ মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার করেছে।

সূত্রঃ ব্লুমবার্গ

কিউএনবি/অনিমা/১৮ এপ্রিল ২০২৬,/সকাল ৭:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit