শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন

এটি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ অনুভূতির চার উইকেট: জাম্পা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : চার ওভারে ২১ রান দিয়ে ৪ উইকেট, সংখ্যাটা বলছে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। কিন্তু ম্যাচ শেষে অ্যাডাম জাম্পার অনুভূতি ছিল ঠিক উল্টো। ওমানের বিপক্ষে ৯ উইকেটের বড় জয়ের রাতেও অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার বললেন, এটি তার ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে খারাপ অনুভূতির চার উইকেট’।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ম্যাচ শেষে জাম্পা বলেন, ‘সত্যি বলতে ভেতরটা ফাঁপা লাগছে। উইকেট পাওয়া অবশ্যই ভালো, কিন্তু এটা সম্ভবত আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ অনুভূতির চার উইকেট। আজ শূন্য উইকেট পেলেও হয়তো একই রকম লাগত। এখন এখানে বসে জানি, কালই দেশে ফিরছি, এটা আমি কল্পনাও করিনি।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোঁচটের পর শ্রীলঙ্কার কাছে হারে অস্ট্রেলিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়। টানা দুই ম্যাচ হারায় দলটি গ্রুপপর্ব থেকেই ছিটকে যায়। অধিনায়ক মিচেল মার্শ সেই সময় দলকে ‘বিধ্বস্ত’ ও ‘চূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। চার দিন পর ওমানের বিপক্ষে বড় জয় এলেও জাম্পার চোখে সেটি সান্ত্বনার বেশি কিছু নয়। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের ম্যাচে আমাদের আধিপত্য দেখানো উচিত, আজ দেখিয়েছি, এটাই ইতিবাচক দিক। কিন্তু সামগ্রিকভাবে ফলটা হতাশাজনক।’
অস্ট্রেলিয়া ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল। কিন্তু এরপর টানা তিন আসরেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি দলটি। ২০২২ সালে স্বাগতিক হয়েও সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। ২০২৪ সালেও সুপার এইটে তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে বিদায় নেয়। এবারও একই পরিণতি।
জাম্পা বলেন, ‘আমরা সাধারণত টুর্নামেন্ট দল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ২০২১ এর পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপ শেষ করেছি হতাশ হয়ে। ২০২২ ও ২০২৪; বিশেষ করে ওই দুই আসরে আমাদের দল ফাইনালের খুব কাছাকাছি যাওয়ার মতো ছিল। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা কেউ জানে না। কিন্তু ফলাফলগুলো সত্যিই হতাশার।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত তিন দিন ধরে আমি ভাবছি, শেষ তিন বিশ্বকাপ কীভাবে গেল। মাঝের সময়ে আমরা বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই-তিন নম্বরে ছিলাম, সাধারণত ভারতের পরেই। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভারতকে আমরা কঠিন চ্যালেঞ্জ দিই। কখনো তারা জেতে, কখনো আমরা। আমরা ভালো দল। কিন্তু এমন ফলাফল বোঝা কঠিন।’
জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা হারের পর অস্ট্রেলিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, অ্যাশেজের মতো মর্যাদাপূর্ণ টেস্ট সিরিজের তুলনায় কি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কম গুরুত্ব দেয় দলটি? বিশেষ করে ২০২৫-২৬ মৌসুমে অ্যাশেজ ৪-১ ব্যবধানে ধরে রাখার পর এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
তবে কেবল সাদা বলের ক্রিকেট খেলা জাম্পা এ ধারণা উড়িয়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘কোচ ও সাপোর্ট স্টাফরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আমরা কীভাবে খেলব, কে কোন ভূমিকায় থাকবে, প্রস্তুতি কেমন হবে; এসব নিয়ে যত সময় দেন, টেস্ট ক্রিকেটেও হয়তো ততটাই দেন। হয়তো আরও বেশি। কারণ টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে বিশ্ব ক্রিকেট অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।’
অস্ট্রেলিয়ার দর্শকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের সাদা বলের অনেক ম্যাচই অস্ট্রেলিয়ার সময়ের বাইরে হয়। দেশে গ্রীষ্মে আমরা তিন থেকে ছয়টি ম্যাচ খেলি। ফলে দর্শকেরা প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়াটা কাছ থেকে দেখতে পারেন না।’
ব্যক্তিগতভাবে সফল হয়েও দলের ব্যর্থতায় আনন্দহীন জাম্পা। তার ৪ উইকেটের বোলিং ছিল নিখুঁত, লাইন-লেন্থে শৃঙ্খলা, গতি পরিবর্তনে কৌশল। তবু সেটি হয়ে থাকল বিদায়ের প্রাক্কালে এক বিষণ্ন পরিসংখ্যান।

 

 

কিউএনবি/খোরশেদ/২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/দুপুর ১২:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit