বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

কর্মস্থলে নারী সহকর্মী নির্যাতন: রাঙামাটিতে সরকারি কর্মকর্তা গ্রেফতার

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি।
  • Update Time : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ Time View

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি : সরকারি চাকরির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ নারী নির্যাতনের অভিযোগে রাঙামাটিতে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক দিদার আলম (৪৩) নামের এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একই কর্মস্থলের এক নারী সহকর্মীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গোপনে ভিডিও ধারণ করেন এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করে একাধিকবার ধর্ষণ ও মানসিক নির্যাতন চালান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম (৩৩) রাঙামাটি সদর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত দিদার আলম একই কার্যালয়ের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ছিলেন। দীর্ঘ চার বছর একই কর্মস্থলে চাকরির সুবাদে পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত প্রথমে বিশ্বাস অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভিকটিমকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর অফিস চলাকালে ভিকটিমকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ওই সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভিকটিমকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২২ জানুয়ারি শহরের আসামবস্তি এলাকায় অভিযুক্তের আরেক বাসায় ভিকটিমকে পুনরায় একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত শুধু শারীরিক নির্যাতনেই থেমে থাকেননি—ভিকটিমের স্বামী ও পরিবারের কাছে ঘটনা প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। এমনকি হুমকির মুখে ভিকটিমের স্বামীকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাক দিতে বাধ্য করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনায় চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে ভিকটিম পরিবারের সঙ্গে আলোচনা শেষে কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত দিদার আলমকে গ্রেফতার করে।

মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১)/৮(২)/৮(৩) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নম্বর-১৪, তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬। উল্লেখযোগ্য যে, অতি সম্প্রতি রাঙামাটি শহরে সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগে—এক সরকারি প্রাথমিক শিক্ষিকাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনায়—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছে।

পরপর এমন ঘটনায় রাঙামাটিতে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার সমাজে ভয়ংকর সামাজিক অবক্ষয় ডেকে আনছে। এতে শুধু ভুক্তভোগী নারী নয়, ভেঙে পড়ছে পরিবার, নষ্ট হচ্ছে সামাজিক বন্ধন ও মূল্যবোধ।

সচেতন মহলের দাবি, নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মস্থলে কঠোর নজরদারি, অভিযোগ ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের সামাজিকভাবে হেয় না করে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

 

কিউএনবি/আয়শা/২৮ জানুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৪:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit