বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন

জাতিসংঘের বিকল্প হতে পারে ‘বোর্ড অব পিস’: ট্রাম্প

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা পুনর্গঠন তদারকির লক্ষ্যে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে তিনি এই ইঙ্গিত দেন। 

সমালোচকরা মনে করছেন, ৮০ বছর আগে বিশ্বশান্তি রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।

বোর্ড অব পিসের খসড়া চার্টার অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বোর্ডের ‘অনির্দিষ্টকালীন চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ, তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্সি শেষ হওয়ার পরও তিনি এই পদে বহাল থাকতে পারবেন। কেবলমাত্র স্বেচ্ছায় পদত্যাগ বা বোর্ডের সকল সদস্যের সর্বসম্মত ভোটে ‘অক্ষম’ প্রমাণিত হলেই তার পদ শূন্য হবে। তবে মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ট্রাম্পের পাশাপাশি নিজেদের একজন প্রতিনিধি এই বোর্ডে নিয়োগ দিতে পারবেন।

বোর্ড অব পিসের সদস্যপদ নিয়েও বিতর্ক তুঙ্গে। জানা গেছে, এই বোর্ডের একটি স্থায়ী সদস্যপদ পেতে আগ্রহী দেশগুলোকে গুনতে হবে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। ইতোমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৫০টি দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার দাভোসে এক জমকালো স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস এই বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছে। তালিকায় রয়েছেন- ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং বাহরাইন ইতোমধ্যে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে ফ্রান্সের মতো দেশগুলো সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, আমন্ত্রিত ৫০টি দেশের মধ্যে অন্তত ৩৫টি দেশ বৃহস্পতিবারের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারে।

বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার জেদ এবং জাতিসংঘের বিকল্প সংস্থা গড়ার এই পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপীয় মিত্র ও ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন। গাজা পুনর্গঠনের নাম করে গঠিত এই বোর্ড শেষ পর্যন্ত ভূ-রাজনীতিতে জাতিসংঘের গুরুত্ব কতটা কমিয়ে দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: সিএনএন

কিউএনবি/অনিমা/২২ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৫:৫৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit