বিনোদন ডেস্ক : গতকাল অভিনেত্রী মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া ‘বাকস্বাধীনতার জন্য লড়াই হলো, কিন্তু প্রয়োগ করা এখনো যাচ্ছে না’ এমন একটি স্ট্যাটাস দেন। সেই পোস্টের পক্ষে-বিপক্ষে অনেকেই নিজের মতামত দিতে শুরু করেছেন। বিষয়টি আরও খোলাশা করেছেন টয়া। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে যা দেখছি, তা নিয়েই লিখেছি। ওরা ছোট মানুষ (আন্দোলনকারী ছাত্র সমাজ), ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ধৈর্য হারাচ্ছে রাস্তাঘাটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে তল্লাশি করে না, ওরা সেভাবে করছে! একটা পর্যায়ে আমার কাছে বিষয়গুলো একটু বেশিই বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে।
গত ১৫ আগস্ট রাতে ধানমন্ডি ৩২ ঘিরে যা ঘটল, দুজন বয়স্ক মানুষকে কান ধরে উঠবস করানো ইত্যাদি। ভিন্নমতের মানুষকে দমন করার একটা মানসিকতা দেখেছি, যা থেকে আমরা মুক্ত হতে চেয়েছি। ওই পোস্টের নিচে আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হলো।’

অনেকেই বলছে, আপনারা ১০-১৫ দিনও সময় দিচ্ছেন না, অথচ ১৫ বছর ধরে ওদের সহ্য করছেন, দালালি করছেন! ওদের পক্ষে ছিলেন। এ প্রসঙ্গে মুমতাহিনা টয়া বলেন, ‘১৫ বছর আগে বলতে পারেননি, এই ভুলের কারণেই তো ব্যাপারটা ১৫ বছর গড়িয়েছে। ভুল শোধরানোর জন্যই তো আন্দোলন করেছি। এখন আমরা যদি শুরুতেই বলতে না পারি যে এখানে সমস্যা, ওখানে সমস্যা, এটা ঠিক নয়, ওটা ঠিক নয়, তাহলে ১৫ বছর পর আর বলা যাবে না। আমি মনে করি, সমস্যার কথা শুরু থেকেই বলতে হবে। কারণ, ভুল শোধরানোর এখনই সময়।
তাই প্রথম দিন থেকেই বলার মানসিকতা থাকতে হবে। এটা আসলে ১০ কিংবা ১৫ দিনের ব্যাপার নয়, আমাদের মধ্যে যে হিংসাত্মক মনোভাব এখনো আছে, ওটাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি, সেটা নিয়ে ভাবা উচিত। তা না হলে তরুণ প্রজন্ম, তুমি বা তোমরা যেটার জন্য লড়াই করেছ, বাক্স্বাধীনতা ফিরে আসুক, অনিয়ম দূর হোক, সবাই শান্তিতে থাকুক, দুর্নীতিমুক্ত দেশ হোক; এখন তুমিই যদি স্বৈরাচারীদের মতো একই পথে হাঁটো, আমরা বলার পর যদি গ্রহণ করতে না পারো, তাহলে আন্দোলন করে কী পেলাম আমরা? যে মানুষ তোমাদের ডাকে রাস্তায় নামলাম, তোমাদের সমালোচনা করায়, গালি খাচ্ছি তোমাদের। তাহলে কি আমরা চুপ করে বসে থাকব? আমার কথা হচ্ছে, আমি যা লিখছি, সেটা তোমাদের কাজের মাধ্যমে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করো। গালি দিতে পারো না, দালাল বলতে পারো না, ‘চুপ করো’ বলতে পারো না।’

টয়া আরও বলেন, ‘এত দিন যারা চুপ ছিলেন, তারা যে এখন বলছেন, তাতে দোষের কিছু দেখছি না। গর্তে ছিলেন নাকি? সুশীল সমাজ নাকি? এমন কথা তাদের বলতে পারি না। সুশীল সমাজটাকে গালি বানিয়ে ফেলছি। গঠনমূলক সমালোচনাও করতে পারছি না। আসলে আমরা এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে অনেক আগে থেকেই আছি, বিশেষ করে নারীশিল্পীরা প্রতিনিয়ত কিছু বললেই নিগ্রহের শিকার হচ্ছি, একটা স্বাভাবিক ছবি পোস্ট করলেও অনেক আক্রমণাত্মক মন্তব্যের শিকার হচ্ছি। তারপরও আমি খুবই ইতিবাচক, মনে করছি, ভালো সময় আসবে।’
কিউএনবি/আয়শা/১৭ অগাস্ট ২০২৪,/বিকাল ৫:৪০